ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল ম্যাচ চলাকালে মাঠে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারতে দেখা যায় গ্যালারি থেকে। কখনও কখনও দর্শকদের এমন আচরণ ম্যাচে বিঘ্নও ঘটায়। তবে এবার ঘটলো আরও বড় অবাক করা এক কাণ্ড। শূকরের কাটা মাথা ছুড়ে মারার ঘটনায় তোলপাড়া ব্রাজিল ফুটবলে। এ ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত, ইতোমধ্যে জড়িত থাকার দায়ে দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তবে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এর আগে স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের এল-ক্লাসিকোতেও এমনটা দেখা গেছে। ২২ বছর আগের সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হলো ব্রাজিলে। গতকাল দেশটির ক্লাব প্রতিযোগিতা সিরি-আ’য় দুই বড় প্রতিদ্বন্দ্বী করিন্থিয়ান্স ও পালমেইরাস মুখোমুখি হয়েছিল। হঠাৎই ম্যাচের মাঝে উড়ে আসে শূকরের আস্ত এক মাথা।
ওই সময় পালমেইরাস কর্ণার পেয়েছিল। দলটির মিডফিল্ডার রাফায়েল ভেইগা কর্নার কিক নিতে যাওয়ার আগেই মাঠে মারা হয় মাথাটি। তখন করিন্থিয়ান্সের ফরোয়ার্ড ইউরি আলবার্তো অন্য কোনো বস্তু মনে করে শূকরের কর্তিত মাথায় লাথি মেরে লাইনের বাইরে পাঠিয়ে দেন। তবে পরে বুঝতে পারেন তিনি যা মনে করেছিলেন, সেরকম হালকা কিছু ছিল না এটি।
যা নিয়ে ম্যাচশেষে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সংবাদমাধ্যম গ্লোবোকে বলেন, ‘আমার মনে হলো (সেটাতে লাথি মেরে) নিজের পা ভেঙে ফেলেছি। আমি অন্য কিছু মনে করেছিলাম, ভেবেছি কুশন জাতীয় কিছু হবে। কিন্তু পরে জানা যায় এটি শূকরের মাথা, অর্থাৎ আমি নিজেকেই আঘাত করেছি!’ এ নিয়ে রেফারি উইল্টন পেরেইরা অভিযোগ দিলে, সুপরিওর কোর্ট অব স্পোর্টস জাস্টিসে (এসটিজেডি) বিচারের মুখোমুখি হতে হবে ম্যাচের স্বাগতিক করিন্থিয়ান্স ক্লাবকে।
এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হলেও যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে করিন্থিয়ান্সের মাঠে কীভাবে মৃত শূকরের মাথা এলো তা নিয়ে চলছে তদন্ত। এর আগে ১৯৮৬ সালে আরেক ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের বিপক্ষে একবার পালমেইরাস সমর্থকরা হেয় করে স্লোগান দিয়েছিল। যেখানে পালমেইরাস ভক্তরা প্রতিপক্ষ ফুটবলার ও সমর্থকদের গালি হিসেবে ‘শূকর’ শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন। তাতে জ্বালানি হয়ে ওঠে ব্রাজিলের একটি ক্রীড়া সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি ছবি। যেখানে পালমেইরাস মিডফিল্ডার জর্জিনিয়ো পুতিনাত্তির মাথার বদলে শূকরের মাথা বসিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে ২০০২ সালে একটি এল-ক্লাসিকো ম্যাচে বার্সা-রিয়ালের লড়াইয়ে মাঠে শূকরের মাথা ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটে। তার পেছনে অবশ্য আবেগতাড়িত একটি কারণও রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে বার্সেলোনার ইতিহাসে অন্যতম প্রশংসিত তারকা লুইস ফিগো ২০০০ সালে যোগ দেন রিয়ালে। এর দুই বছর পর যখন তিনি ক্যাম্প ন্যুতে প্রতিপক্ষ জার্সিতে খেলতে নামেন, সেটি মেনে নিতে পারেননি কাতালান সমর্থকরা। তিনি কর্ণার কিক নিতে গেলে শূকরের একটি মাথা ছুড়ে মারা হয়। যাকে স্প্যানিশ ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় ঘটনা বলা হয়ে থাকে!
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




