ছবি: নিজস্ব
সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ, প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য, অনুমতি ছাড়া উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, দীর্ঘদিন ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকা, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ একাধিক অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলেও চার মাস ধরে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের বাগবাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিশেষায়িত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অটিজম ও অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা সহায়তা এবং বিকাশমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভিযুক্ত শিক্ষিকার কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠে আসছিল।অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোঃ সারওয়ার আলমের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করেন সিলেট জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ। গত ২ জানুয়ারি জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোছাঃ আকলিমা বেগমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৯’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষিকা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় অনীহা দেখিয়েছেন এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। এছাড়া শিক্ষার্থী, বিশেষ করে অটিজম ও এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন করে সুবিধা নিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটিকে অবহিত না করে সরাসরি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কাছে পদোন্নতির আবেদন করেন, যা পরবর্তীতে বাতিল হয়।
তদন্তের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষিকা আকলিমা বেগমের আচরণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সন্তোষজনক নয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করারও সুপারিশ করা হয়।
তবে সুপারিশ পাঠানোর প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষককে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষক মিলনায়তনে বসে প্রতিষ্ঠান, পরিচালনা পর্ষদ, জেলা প্রশাসন এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ফারজানা ইশরাত বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম এবং জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোছাঃ আকলিমা বেগমের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। তাই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




