ছবি: নিজস্ব
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কতৃক মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগবিধি সংশোধন পূর্বক স্নাতক/ সমমান সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান ও ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান, পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রদানসহ ৬ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিস্টেন্ট এ্যাসোসিয়েশন গোলাপগঞ্জ শাখা।
মঙলবার ( ২৪ জুন) সকাল ১০ টায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এ্যাসোসিয়েশন গোলাপগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মোঃ আব্দুর রব। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিলেট জেলার সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম। গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমদ, সিনিয়র সদস্য আব্দুস সামাদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও ইনচার্জ জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী।
অবস্থান কর্মসূচি পালনে বক্তব্যে সংগঠনের নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অধিনস্থ দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ হাজার এর অধিক স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক কাজ করছেন এই সংখ্যা সরকারী স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত মোট জনবলের ৩১ শতাংশ।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে স্বাস্থ্য সহকারীগণ মাঠ পর্যায়ে আন্তঃব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেন। এছাড়াও সমাজের প্রচলিত রোগ হতে মুক্তির উপায় এবং নতুন রোগের আগমন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়াও নিম্নে উল্লেখিত স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী কার্যক্রমে স্বাস্থ্য সহকারীগণ সম্পৃক্ত।
১। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) বাস্তবায়ন। জন্ম থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর টিকাদান। ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীদের টিটি/টিডি টিকা।
২। গর্ভবর্তী মা ও শিশুদের সেবা প্রদান।
৩। গর্ভকালীন ৪টি চেকআপ নিশ্চিত করা। প্রসব-পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সেবা (ANC ও PNC) প্রদান। মা ও শিশুর পুষ্টি, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ দেওয়া। নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে অবহিত করা। টিকার সময়সূচি অনুযায়ী মাঠেকাজ করা ও রিপোর্ট প্রদান।
৪। জাতীয় ও বিশেষ স্বাস্থ্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ:
করোনাকালীন টিকাদান কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ে নিবন্ধন, ফলোআপ, জনসচেতনতা ও টিকাদান কেন্দ্রে সেবা প্রদান।
MR ক্যাম্পেইন (Measles-Rubella): শিশুদের হামের ও রুবেলার টিকা দেওয়ার সময় সরাসরি অংশগ্রহণ।
Vitamin A Plus ক্যাম্পেইন: ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন \'এ\' ক্যাপসুল খাওয়ানো।
৫। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মায়েদের স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান। পুষ্টি, পরিবেশ স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি। মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গ্রুপ বৈঠকের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
৬। কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত সেবা প্রদান: এলাকা ভিত্তিক জনগণের স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ করা। রোগীদের উপসর্গ যাচাই করে প্রাথমিক পরামর্শ এবং প্রয়োজনে রেফার করা। বিভিন্ন সংক্রামক রোগের (ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি) প্রাদুর্ভাব হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। সংক্রামক, অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি।
৭। জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা পালন: মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।
করোনা বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসেবা নিশ্চিত করা।
৮। স্বাস্থ্য সহকারীগন সপ্তাহে ৩ দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে থাকেন।
স্বাস্থ্য সহকারীরা অপ্রতুল সুযোগ সুবিধা ও সিমিতি জনবল নিয়েও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ চার দশকের বেশী সময় ধরে তার প্রথম সারির যোদ্ধা হিসাবে জনগণের স্বাস্থ্য সেবায় নিবেদিত থেকেছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত তাদের পদে কোন পরিবর্তন হয়নি। বেতন কাঠামোতে রয়েছে চরম বেষম্য তবুও তার থেমে থাকেনি। জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাফল্য এসেছে তার পেছনে স্বাস্থ্য সহকারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস পোলিও নিয়ন্ত্রণ, বসন্ত নির্মূল এবং ১০টি মারাত্মক রোগে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার সমানে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তারা আরো বলেন, তৃণমূল পর্যয়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের সফলতা শুধু দেশ নয় আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম দিনের মতো অবস্থান পালন কর্মসূচি পালনে বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এ্যাসোসিয়েশন এর সকল স্বাস্থ্য সহকারীদের অংশগ্রহণ।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সামনে এই অবস্থান কর্মসূচীতে আরো উপস্থিত ছিলেন, শিলা রানী দাস, রেহানা পারভীন শিমু, সুপার্থ বিস্বাস, মোঃ জামরান আহমদ, সাইফুল আলম, সুপ্রারানী নাথ, রুমানা আক্তার রুমি, বিনতা সরকার, সাবিক হোসেন চৌধুরী। এমটি ইপিআই বেলাল আহমদ প্রমুখ।
৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১। নির্বাহী আদেশে নিয়োগ বিধি সংশোধন শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক/সমমান করে ১৪তম গ্রেড।
২। ইনসার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা সহ বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
৩। পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ।
৪। স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ পূর্বের নিয়োগ বিধি দ্বারা নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও সকলেই প্রশিক্ষণবিহীন স্নাতক পাশ স্কেলে আন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫। বেতন স্কেল উন্নীতকরণের পূর্বে স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ যত সংখ্যক টাইম স্কেল (১/২/৩টি) উচ্চতর স্কেল (১/২টি) প্রাপ্ত/প্রাপ্য হয়েছেন, তা উন্নীত পুনঃনির
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




