ফাইল ছবি
সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ১ নভেম্বর সিলেট চেম্বারের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটের ৫ দিন আগে হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ দিকে নির্বাচন স্থগিত নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্ব দুই প্যানেল এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করছে। শুধু তাই নয় বিষয়টি গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক এর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ এবং সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম নেতৃবৃন্দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ঘটনাও ঘটে। পরে অবশ্য বিষয়টি মিটমাট হয়।
নাম প্রাকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জোয়ার দেখে একটা পক্ষ নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে। রোববার বিকেল চারটায় নগরীর হোটেল স্টার প্যাসিফিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ফাহিম আহমদ চৌধুরী অভিযোগ করেন একটা পক্ষ সিলেট চেম্বারের নির্বাচন চায় না। তারা সব সময়ই বিশৃঙ্খলা করে যাচ্ছে। এরাই জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের লোক দিয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে সিলেটের সকল ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদে মাঠে নামবে।
তিনি আরো বলেন, ভোটার তালিকার মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। পরে অভিযুক্ত ভোটার ও অভিযোগকারীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন বসেন। কয়েক দফায় যাচাই-বাছাই করার পর অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের নাম চ‚ড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাখা হয়। তাহলে এখন কেনো ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে। এটা চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি বলেন, আমাদের প্যানেলের দুইজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু কেন প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে তার কোনো দালিলিক প্রমাণ আমাদের হাতে দেওয়া হয়নি।
ফাহিম আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রতিদ্ব›দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে তারা জানেন না। অথচ তাদের সমন্বয়কও যারা পেছনে থেকে নির্বাচনের কাজ করছেন তারাই আবেদন দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছেন।
নির্বাচনে আমাদের নিরঙ্কুশ বিজয় হবে বুঝতে পেরে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সিলেট চেম্বারের বর্তমান প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আপিল বিভাগ সম্পূর্ন ব্যর্থ উল্লেখ করে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এদিকে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা ক‚টকৌশলে ফ্যাসিস্ট সমর্থক একদল ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে ছিল সিলেটের ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন। গত দেড় দশকে নানারকম সমঝোতা ও নামমাত্র নির্বাচন দেখিয়ে চেম্বারের নেতৃত্ব জোর করে দখলে রাখা হয় বলে তাদের অভিযোগ।
এর আগে রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে সদস্যপদ পুনরায় যাচাই- বাছাই করে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা যাচাই- বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একটি সূত্রের দাবি, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান দুলুসহ চারজন সদস্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি আবেদন জমা দিয়েছিলেন তিনি। যার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা বলেন, ‘চিঠিতে বলা হয়েছে ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করার কথা। মূলত তালিকায় কিছু সমস্যা নিয়ে কয়েকজন সদস্য অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন যাচাইসহ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনে দুটি প্যানেল সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম থেকে ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছিলেন। জানতে চাইলে সিলেট চেম্বারের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি ও সিলেটের ব্যবসায়ী খন্দকার শিপার আহমেদ বলেন, ‘হঠাৎ চেম্বারের নির্বাচন স্থগিত করা অপ্রত্যাশিত। এটা সিলেটের সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার হরণের শামিল। যারা ভোটে নির্বাচিত হতে ভয় পান তারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সমর্থক একটা গোষ্ঠী সিলেট চেম্বারে আসলে নির্বাচন চায় না। ঘোষিত তফসিলেই নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক কোনো তৎপরতার সাথে সিলেট চেম্বার সদস্যদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




