ফাইল ফটো
২০২৩ ফিফা নারী বিশ্বকাপে প্রকাশ্যে 'চুমুকাণ্ড' ঘটিয়েছিলেন স্পেনের ফুটবল প্রধান লুইস রুবিয়ালেস। রেসলিং ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ও কোচদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে ভারতে চলেছে নজিরবিহীন বিক্ষোভ। ২০১৮ সালে শিরোনামে উঠে আসে ভারোত্তলন ও সুইমিং ফেডারেশনে একই ধরনের অভিযোগ। সবশেষ বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম।ওপরের শিরোনামগুলো মূলত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানির টুকরো অংশ। এগুলোর সাথে সবশেষ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলমের আনা একই ধরনের অভিযোগ। দলের সাবেক নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও প্রয়াত সাবেক ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সবশেষ ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানির ঘটনা বড় করে খবরে এসেছিলো ফিফা নারী ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৩ কে ঘিরে। স্পেন নারী দল বিশ্বকাপ জেতার পর দেশটির ফুটবল প্রধান লুইস রুবিয়ালেস দলের মিডফিল্ডার হেরমোসোর সঙ্গে চুমু কাণ্ড ঘটান। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পদত্যাগ করেন রুবিয়ালেস। ফৌজদারি মামলার পর আদালত ১০ হাজার ৮০০ ইউরো জরিমানার পাশাপাশি হেরমোসোর ২০০ মিটারের আশেপাশে না যাওয়া এবং এক বছরের জন্য তার সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেন রুবিয়ালেসকে। তবে পুনর্বিচার ও জেল শাস্তির দাবি জানানো হলে, আদলত তা প্রত্যাখ্যান করে।তেইশের নারী বিশ্বকাপে যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিলো আরও। জাম্বিয়া নারী জাতীয় দলের এক ফুটবলারকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে ঐ আসরেই। গ্যাবন, হাইতি ও যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল ঘিরেও একই অভিযোগ উঠেছিলো তার কিছুদিন আগেই।
পার্শ্ববর্তী ভারতে ২০২৩ এর জানুয়ারিতে নজিরবিহীন এক বিক্ষোভ হয়েছিলো। দেশটির রেসলিং ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ও কোচদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন শীর্ষ পর্যায়ের অ্যাথলেটরা। দুবারের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ পদক বিজয়ী ভিনেশ ফোগাটের অভিযোগের পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তত ১০ জন নারী কুস্তিগির তার কাছে ডব্লিউএফআইয়ের সভাপতি ব্রিজ ভূষণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ দিয়েছেনর'ক্রীড়াঙ্গনে ধর্ষণ: ক্রীড়া ক্যাম্পগুলোতে নারী খেলোয়াড়রা কতটা নিরাপদ?'— এমন শিরোনামে ২০১৮ সালে সংবাদ প্রচার করেছিলো বিবিসি। ঐ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এক নারী ভারোত্তোলককে ধর্ষণের অভিযোগের বর্ননা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের সুইমিং ফেডারেশনেও এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ঐ প্রতিবেদনে সাক্ষাতকার দেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল সাঁতারু মাহফুজা শিলা।ব্যক্তি পর্যায়ে নিপীড়নের এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে ক্রীড়া বিশ্বে। অভিযোগের পর তদন্ত শেষে শাস্তির নজিরও কম নয়। তবে চেপে যাওয়া কিংবা জাতীয় স্বার্থের কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে যারাই--যৌন নিপিড়ণের বীষবৃক্ষটা শুধু বড়-ই হয়েছেে সেখানে। আর এখান থেকেই শেখার আছে বিসিবির। নারীদের জন্য নিরাপদ -সম্মানের ক্রীড়াঙ্গন নিশ্চিত করতে কঠোর হতে না পারলে, ভবিষ্যত যে অন্ধকার; সেটি অনেকটাই অনুমেয়।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




