ছবি:সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের বাকি আর মাত্র এক দিন। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা আজ সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে। শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই লেগেছে প্রচারের রং। গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, অলিগলি, শহরের মোড়-সবখানেই একটাই সুর, একটাই ডাক- ভোট। চলছে ডিজিটাল প্রচারও। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থী- সবাই এখন ভোটের মাঠে। সব মিলিয়ে সিলেটে উৎসবমুখর আবহ বিরাজ করছে। এদিকে এবার একইদিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সাধারণ ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে আলেচনা-আগ্রহ থাকলে গণভোট নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। গণভোট কী? এতে হ্যাঁ দিলে কী হবে, না দিলে কী হবে? সেটিও অনেকে জানেন না। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা গণভোটের বিষয়টিও জনগণের কাছে স্পষ্ট করছেন না। সাধারণ মানুষের সাথে আলাপকালে এমন ধারনাই পাওয়া গেছে।
এদিকে পুলিশ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন নিয়ে রকানো শঙ্কা নেই। ভোটের মাঠে পুলিশ, সেনা আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তথ্যমতে, জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে এক হাজার ১৬টি। এর মধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৯৫ ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের ভাষায় এ কেন্দ্রগুলো ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’। তবে জেলা পুলিশ কোনো কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কোন কেন্দ্র চিহ্নিত করেনি।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, সিলেট জেলায় ৬টি নির্বাচনী আসন রয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসন মেট্রোপলিটন পুলিশের ছয়টি থানায় পড়েছে। আর সিলেট-৩ আসনে তিনটি উপজেলার মধ্যে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র নগর পুলিশের দুটি থানায় আওতায় রয়েছে। এছাড়াও সিলেট-২, ৪, ৫, ৬ ও ৩ আসনের দুটি উপজেলাসহ বাকি ভোট কেন্দ্রগুলো জেলা পুলিশের আওতাধীন।
গত ৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, ‘মহানগরীর ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোতে চারজন করে অস্ত্রসহ পুলিশ, দুইজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও মহিলা আনসার মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ, দুইজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও মহিলা আনসার মোতায়েন থাকবে।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৯৫, গুরুত্বপূর্ণ ১৩৪ ও সাধারণ ৬৫টি কেন্দ্র রয়েছে। নগর পুলিশের আওয়ায় মোট ২৯৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
জেলা পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. সম্রাট তালুকদার বলেন, ‘পরিপত্র অনুযায়ী দুরত্ব, ভোটারের সংখ্যা ও দুর্গম এলাকার কারণে ১০৩টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আর জেলার ৬১৯টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ কেন্দ্র ধরা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
অপরদিকে প্রচারণার শেষ মুহুর্তে এসে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের কথার লড়াই যেমন জমে উঠেছে, তেমনি ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল প্রচারযুদ্ধ। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে শুরু করে শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম সব মাধ্যমেই চলছে প্রচার। প্রথমবার ভোট দিতে চলা তরুণদের মধ্যেও উৎসাহ চোখে পড়ার মতো।
ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলো এখন রাজনৈতিক তর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ভোটারদের চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে আসছে প্রার্থীদের অতীত আমলনামা ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। সংসদ সদস্য প্রার্থীরা আত্মীয়-স্বজনসহ অনুসারীদের বহর নিয়ে প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ-ঘাট ও দুর্গম জনপদ।
ভোট চাইতে ঘরে ঘরে প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তানরা:
নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দেখা যাচ্ছে নির্বাচনি প্রচারে সরব। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইতে গ্রাম-গঞ্জের পথে নেমেছেন স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে। সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরী গ্রামের মেঠো পথে হেঁটে হেঁটে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন। শুধু তিনি নন জেলার বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের স্ত্রী, সন্তান সরাসরি ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




