অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলন হতে পারে ক্ষতির কারণ
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০২:২৮ PM

মতামত

অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলন হতে পারে ক্ষতির কারণ

প্রকাশিত: ২১/০৫/২০২৬ ০১:০৬:১৭ PM

অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলন  হতে পারে ক্ষতির কারণ

জৈন্তা বার্তা


তাহমিনা লিজা

সিলেটের পাহাড়ঘেরা নদী আর ছড়াগুলো শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এগুলো এ অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যেরও প্রধান ভিত্তি। ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি কিংবা ডাউকি নদী—এসব এলাকায় মাটির নিচে বিপুল শিলাসম্পদের অস্তিত্ব দেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক সংবাদ। অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, রেলপথ সম্প্রসারণ কিংবা নদীশাসনে এসব পাথরের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু আশার এই খবরের আড়ালেই রয়েছে বড় এক শঙ্কা। অতীতে সিলেট অঞ্চলে যেভাবে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলন হয়েছে, তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়েছে, কোথাও কোথাও নদীভাঙন বেড়েছে। এমনকি কৃষিজমি, বসতভিটা ও স্থানীয় মানুষের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

পাথর উত্তোলনের সময় ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার, ড্রেজার দিয়ে নির্বিচারে খনন এবং নদীর প্রাকৃতিক গঠন পরিবর্তনের ফলে নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। নদীর পানিপ্রবাহে এই পরিবর্তন শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি মাছ, জলজ প্রাণী ও নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ে।

সিলেটের অনেক এলাকা পর্যটননির্ভর। জাফলং, বিছনাকান্দি কিংবা ভোলাগঞ্জে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনের কারণে ইতোমধ্যে এসব এলাকার নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় কাটা, নদীর স্বচ্ছতা নষ্ট হওয়া এবং পরিবেশদূষণ পর্যটন শিল্পের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে শিলাসম্পদ ব্যবহার অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেটি হতে হবে বৈজ্ঞানিক জরিপ, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং টেকসই নীতিমালার ভিত্তিতে। কোন এলাকায় কতটুকু পাথর উত্তোলন করা যাবে, কীভাবে পরিবেশের ক্ষতি কমানো যাবে এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত পরিবেশবিদ, ভূতত্ত্ববিদ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে অবৈধ উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ যদি প্রকৃতির অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তোলে, তাহলে সেই উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত টেকসই হয় না।

সিলেটের মাটির নিচে থাকা শিলাসম্পদ দেশের অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জৈন্তা বার্তা /ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার উন্নয়নে প্রতি বছর ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে : এমপি ফয়সল
অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলন হতে পারে ক্ষতির কারণ
কোম্পানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে মা*রধর করে টাকা ছি*নতাই
নবীগঞ্জে চু*রি-ছি*নতাই বৃদ্ধি, জনমনে উ*দ্বেগ
২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও স্ববেতনে ছুটির দাবি
২৩ মে থেকে গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমি মাঠে বসছে পশুর হাট
জৈন্তাপুরে নিজের শি*শু ক*ন্যাকে এ*কাধিকবার ধ*র্ষণ, পিতা গ্রে*প্তার
বিয়ানীবাজারে পৃথক ঘট*নায় বৃদ্ধ ও শিশুর মৃ*ত্যু
‘গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সব সমস্যার সমাধান করা হবে’ - এমপি এমরান চৌধুরী
সুনামগঞ্জে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সং'ঘর্ষে নি'হত ২