ছবি:সংগৃহীত
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশে-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
‘দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নেসারুল হক চৌধুরী (বুস্তান স্যার), সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. অরুণ কুমার দেব এবং সাধারণ সম্পাদক মকসুদ হোসেন এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর নিষ্ঠা, সততা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব দেশের মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিবৃতিতে তাঁরা তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা, নেতাকর্মীদের আটকে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণের সমালোচনা করে এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানান। তাঁরা বলেন, একজন জাতীয় নেতার বিদায়লগ্নে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম লিংকনসহ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও উপদেষ্টাবৃন্দ এক যৌথ শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ওয়েলস শাখার নেতৃবৃন্দও তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
শোকবার্তায় মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তোফায়েল আহমেদের নাম। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আপসহীন নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শুধু একজন ব্যক্তির বিদায় ঘটে না, বিদায় নেয় একটি ইতিহাস ও সংগ্রামের অধ্যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জাতীয় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
উল্লেখ্য, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তোফায়েল আহমেদ সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
ঐতিহাসিক ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে রেসকোর্স ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার গৌরবও তাঁর। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে ৯ বার সংসদ সদস্য এবং একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাঁর স্মৃতি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




.jpg6a1d7b4d092cc.jpg)