সংগৃহিত
এক বৃদ্ধার তিন ছেলে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত।একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, আরেকজন বুয়েটের শিক্ষক, অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। অথচ তাদের মা মারা গেলেন চরম অবহেলায়। সন্তানদের জন্মদাত্রী মায়ের নাম মা নুরজাহান বেগম (৭৫)। তিনি নিজের ঘরেই মরে পড়ে রইলেন।
রোববার (১ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে নিজের বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে এই বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন পুরো ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে পড়েছে লাশের তীব্র দুর্গন্ধ।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে তার মেয়ের সাথেই থাকতেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের ভেতরে তাকে রাখা হয়েছিল সম্পূর্ণ আলাদা, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা এক অন্ধকার কক্ষে। গত এক সপ্তাহে মায়ের কোনো খোঁজ নেননি মেয়ে বা পরিবারের অন্য সদস্যরা।
ওসির দেওয়া তথ্যমতে, কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে গত রোববার এক নার্সকে ডেকে আনা হয়। ওই নার্স কক্ষে ঢুকে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এই ঘটনা জানাজানির হওয়ার পর স্থানীয় এক বাসিন্দা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুগ্ম সচিব আর বুয়েটের প্রফেসর হয়ে কী লাভ হলো, যদি নিজের মায়ের খবর রাখার মতো সময় না থাকে? এরা সমাজের বড় বড় জায়গায় লেকচার দেয়, অথচ নিজেদের মা ঘরের কোণায় পচে মরছে তা জানে না!’
পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আপাতত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি অবহেলা বা অন্য কোনো সন্দেহজনক আলামত মেলে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



.jpg6a1d7b4d092cc.jpg)
