ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্তে এক বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে ডিপজল আহমদ নামের ওই যুবক নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
নিখোঁজ ডিপজল আহমদ (২৫) জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে ডিপজলসহ কয়েকজন যুবক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে যান। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং গুলি চালায় বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। এ সময় সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসলেও ডিপজল নিখোঁজ হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন। তবে বিজিবি জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং বিএসএফও এমন কোনো ঘটনার কথা স্বীকার করেনি।
এদিকে ডিপজলের সন্ধান না পাওয়ায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত স্থানীয়রা ভারতের এক নাগরিক রঞ্জিত দাস (৬৫)-কে ধরে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মুকিত বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে কয়েকজন যুবক গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনজন পালিয়ে দেশে ফিরলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। যারা ফিরে এসেছেন তারা দাবি করছেন, ডিপজলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজ যুবকের বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে একজন ভারতীয় নাগরিককে ধরে আনা হয়।’
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা একজন ভারতীয় নাগরিককে ধরে এনেছিলেন। পরে বিজিবির মাধ্যমে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজ যুবকের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।’
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার লোকজন দাবি করছেন, ওপারে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।’
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন-১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বলেন, ‘ডিপজল আহমদ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন, তবে এ ধরনের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বিএসএফও এমন কোনো ঘটনা স্বীকার করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




