কবে চালু হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ, ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্পেও ধী/রগতি
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ AM

মেয়াদ শেষেও কাজ মাত্র ২০ শতাংশ

কবে চালু হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ, ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্পেও ধী/রগতি

মোঃ মোশাররফ হোসেন, ছাতক

প্রকাশিত: ৩১/০৮/২০২৬ ১১:৪৩:০১ PM

কবে চালু হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ, ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্পেও ধী/রগতি

ছবি:সংগৃহীত


একসময় শিল্পনগরী ছাতক থেকে চুনাপাথর, সিমেন্ট, বালু-পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন এবং সুনামগঞ্জের মানুষের সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল সিলেট-ছাতক রেলপথ। তবে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় চার বছর ধরে এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রেললাইনের লোহার পাত ও মূল্যবান স্লিপারও চুরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর ২১৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ এগিয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। ফলে কবে নাগাদ সিলেট-ছাতক রেলপথে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ পুনর্বাসনের জন্য ২০২৫ সালে প্রকল্প নেওয়া হয়। ‘২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটারগেজ ট্র্যাক) পুনর্বাসন’ নামের এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা।

সরকারি অর্থ (জিওবি) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১৭ কোটি টাকা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির পরিমাণ প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও প্রকল্পের বড় একটি অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সংস্কার, মাটি ভরাট, কালভার্ট ও সেতু মেরামত, নতুন স্লিপার স্থাপন এবং নতুন রেললাইন বসানোর কাজ রয়েছে। এরই মধ্যে ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পুরোনো রেললাইন অপসারণ করা হয়েছে। ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ভরাট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। তবে নতুন ট্র্যাক স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ এখনো বাকি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ, হাসনাবাদ, কালারুকা, মাধবপুর, ছৈলা-আফজলাবাদ, সৎপুর এবং সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চিসহ বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজ ধীরগতিতে চলছে। কোথাও কোথাও কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২২ সালের বন্যার পর রেলপথের উচ্চতা নির্ধারণ ও সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। সড়কে মাটি ভরাটের পর রেলপথের উচ্চতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না হওয়ায় কিছু এলাকায় কাজ পিছিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল বলেন, ছাতকের সিমেন্ট, চুনাপাথর, বালু ও পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে সিলেট-ছাতক রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি কম খরচে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা যেত। বন্যার পর থেকে রেলপথ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মাটি ভরাট ছাড়া দৃশ্যমানভাবে তেমন কাজ আমাদের নজরে পড়ছে না। সড়কপথে পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ-দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে।

ছাতকের জাউয়া বাজার এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, রেলপথের সংস্কার শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে কিছুদিন কাজ চললেও পরে কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। কাজ বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কেও স্থানীয়রা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।

সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ বলেন, ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ভরাট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলছে। প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, ২৩ আগস্ট প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন মেয়াদ বাড়ানো ও পরবর্তী বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী সজিবুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার অন্যতম কারণ সুনামগঞ্জ অঞ্চলের আবহাওয়া। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির কারণে বছরের বড় একটি সময় কাজ করা সম্ভব হয় না।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বৃষ্টি ও বর্ষার কারণে সময়মতো মাটির কাজ করা সম্ভব হয়নি। দেড় বছর মেয়াদের প্রকল্পের মধ্যে দুটি বর্ষাকাল থাকায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের সব কাজ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও এক বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অতীতে প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় মালামাল আমদানির চেষ্টা চলছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আশা, আরও এক বছর সময় পাওয়া গেলে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যখন প্রকল্পের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কাজ বাকি, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে-আর কত সময় লাগবে সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনর্বাসনে? কবে আবার এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথে ট্রেনের হুইসেল শোনা যাবে, সেই উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

উশুর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে গৌরব আনতে হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
রায়নগরে তিন খু/ন: ইম্পালস টাওয়ারের জমি নিয়ে বি/রোধ ত/দন্তের দাবি
দুই আসামির ডো.প টেস্টে মা/দক মেলেনি
কবে চালু হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ, ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্পেও ধী/রগতি
সুনামগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভা'রতীয় শাড়ি জ'ব্দ
সিলেটে হা'ম পরিস্থিতির অবনতি, হাসপাতালে বাড়ছে রো'গীর চাপ
জকিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃ'ষ্টে ছেলের মৃ'ত্যু, খবর শুনে মা'রা গেলেন বাবা
১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেট আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ
নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিতে হবে- সিসিক প্রশাসক
১৭ দিন অফিসে অনুপস্থিত যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা, সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে মানুষ