অকেজো মোটরসাইকেলের জ্বালানি-মেরামতের নামে অর্থ উত্তোলন!
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ PM

বড়লেখায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিল-ভাউচারে অনিয়মের অভিযোগ

অকেজো মোটরসাইকেলের জ্বালানি-মেরামতের নামে অর্থ উত্তোলন!

মোহাম্মদ মোস্তফা উদ্দিন, বড়লেখা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৯/২০২৬ ০৭:৫৭:১৩ PM

অকেজো মোটরসাইকেলের জ্বালানি-মেরামতের নামে অর্থ উত্তোলন!

অকেজো মোটরসাইকেলের জ্বালানি-মেরামতের নামে অর্থ উত্তোলন!


মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সরকারি মোটরসাইকেল অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকলেও এর জ্বালানি ও মেরামতের নামে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম জামালুদ্দিনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাকাটায় সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানে অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বড়লেখা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এসএম জামালুদ্দিন। কার্যালয়ে থাকা দুটি সরকারি মোটরসাইকেল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেল ব্যবহার না হলেও জ্বালানি ও মেরামতের নামে বিভিন্ন বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২০২৫ সালের ৫ মে মোটরসাইকেলের জ্বালানি ক্রয়ের জন্য ৮ হাজার টাকা, ২০ মে মেরামতের জন্য ২ হাজার টাকা এবং ৩ ডিসেম্বর জ্বালানি ক্রয়ের জন্য আরও ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য ৬ হাজার টাকা, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ক্রয়ের জন্য ১৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১৮ মে একই খাতে আরও ২ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুই অর্থবছরে মোট ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা বিভিন্ন বিল-ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে।

অন্যদিকে অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও কম্পিউটার সামগ্রী কেনাকাটায়ও সরকারি নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রয় কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও তা অনুসরণ না করেই বিভিন্ন মালামাল কেনা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ জুন কোনো ক্রয় কমিটি গঠন না করে এককভাবে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি কম্পিউটার কেনা হয়। এ কেনাকাটায় সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে বড় অঙ্কের আসবাবপত্র ও কম্পিউটার সামগ্রী কেনাকাটায়ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম জামালুদ্দিন। তিনি বলেন, মোট তিনটি সরকারি মোটরসাইকেল রয়েছে। এর একটি ডিডি অফিসে এবং অপর দুটি বড়লেখা কার্যালয়ে। তিনি দাবি করেন, তিন মাস আগেও তিনি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেছেন। চোখের সমস্যার কারণে গত তিন মাস ধরে মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন না।

অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসএম জামালুদ্দিন বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ