ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রসস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের অ*ভিযোগ
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রসস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের অ*ভিযোগ

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/১১/২০২৬ ০৪:১৭:৫৩ অপরাহ্ন

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রসস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের অ*ভিযোগ

সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রসস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মগুলো চোখ রাঙ্গাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এখনই বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে সরকারের প্রায় পৌনে দুইশত কোটি টাকা গচ্চা  যাবে। এতে লাভবান হবে দূর্নীতিবাজরা, আর ভূক্তভোগি হয়ে থাকবে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ। 

জানা যায়, দেশের শীর্ষ স্থানীয় নির্মাণাধীন  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (ওটিবিএল) কর্তৃক সড়ক প্রশস্তকরণ, আধুনিকায়ন এর কাজ শুরু হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্ত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে ২লেন ও সেখান থেকে ছাতকবাজার পর্যন্ত ৪ লেনের কাজ  চলছে। দুই অংশে কাজের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১৭৪ কোটি টাকা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের জন্য  মাধবপুর লালপুল এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ ব্লক তৈরির টার্গেট নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ইতোমধ্যে শারফিনটিলার মরা লাল পাথরের সাথে বিল্ডিং ভাঙ্গার কংক্রিট, নিন্মমানের বালি ও সিমেন্ট দিয়ে ২০ হাজার বল্ক তৈরীর অভিযোগ উটেছে। যে কারণে কাজের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

এছাড়া  সড়ক সম্প্রসারণে কাঁদাযুক্ত মাটি দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উটেছে। অবৈধভাবে নদী থেকে ভিটমাটি উত্তোলন করে সড়কে সাপ্লাই দেওয়ারও অভিযোগ উটেছে স্থানীয় সাইট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সড়কের পাশে ময়লার উপর ভিটমাটি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যা সামন্য বৃষ্টি কিংবা পানির সামন্য ধাক্কায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যেতে পারে। এইসব কাজের তদারকি কিংবা কোন সাইনবোর্ড নেই।সচেতন মহলের অভিযোগ, শুকনো মাটির পরিবর্তে কাঁদামাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে সড়কের প্রসস্তকরণ কাজ। যা টেকসই রাস্তার জন্য মোটেও উপযোগী নয়। 

বল্ক তৈরীর কাজে জড়িত শ্রমিকরা বলছেন, ঠিকাদারের নির্দেশনা মতোই তারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে তারা আর কিছু বলতে নারাজ। এদিকে, অবৈধভাবে কৃষি জমি ও সরকারি জমি থেকেই আনা হচ্ছে কাঁদামাটি। অন্যদিকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সুরমা নদী থেকে ভিট বালি উত্তোলন করে রাখা হচ্ছে সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের কাজীবাড়ি এলাকায়। এসব ভিটমাটি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে সরবরাহ করে অবৈধ ফায়দা হাসিলের অভিযোগ উঠেছে। সিলেট, ছাতক কোম্পানিগঞ্জ, জালালাবাদ অংশ থেকে অবৈধ ভাবে ভিটমাটি উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উটেছে সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা চমক আলীর বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালে ছাতকের লালপুল এলাকা থেকে তার একটি ড্রেজার সহ ড্রেজারের মালিক হাবিবকে আটক করেছিলেন ছাতক উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। পরে তাকে তদবীর করে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি কাজীবাড়ি এলাকায় ভিটমাটিতে অভিযান করেন বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব বিন আমিন। শেষ পর্যন্ত সেটাও ধাঁমাচাপার অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে বিশ্বানাথের ভূমি কর্মকর্তা জানান উপস্থিত কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি,অন্য কোথা থেকে ভিটমাটি এনে এখানে রাখা হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।অন্যদিকে চমক আলী বিভিন্ন বৈধ অবৈধ ওয়ার্ক অর্ডার জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত নদী থেকে এসব ভিটমাটির ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের সুরমা সেতুর চত্তর (পাগল হাসান চত্তর) পর্যন্ত ২ লেনের মাটি ভরাট কাজ ও ভিটমাটিও তিনি সাপ্লাই দিচ্ছেন। তার মাধ্যমে কৃষি জমি থেকে কাঁদাযুক্ত মাটি সরবরাহ করছেন অনেকেই।  অভিযোগ উঠেছে, এই কাজকে ঘিরে চমক আলীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে চমক আলী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত শুধু মাটি ভরাটের কাজ তিনি করছেন। ভিজা মাটির কারণ দেখিয়ে সোমবার রাত থেকে কর্তৃপক্ষ তার মাটি ভরাট কাজ কয়েক দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। অগ্রহায়ণ মাস পরে আবারও মাটি ভরাট কাজ শুরু করবেন।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল এর ডিপিএম, গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত ২লেন কাজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সজল হাওলাদার বলেন, সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে বল্ক তৈরির বিষয়ে বলেন, যে সিঙ্গেল ধরা আছে সে সিঙ্গেল দিয়ে কাজ চলছে। এবং প্রতি নিয়ত পানি দিয়ে ধুয়া হচ্ছে।ছাতক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাদাৎ হোসেন,নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে বল্ক তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ভোলাগঞ্জের কোয়ারী বন্ধ,এছাড়া সুনামগঞ্জে সাদা পাথর না পাওয়ায় শারফিনের পাথর দিয়ে ব্লক তৈরি হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতের বেলায় পাথর আসলে পরদিন সকালে ওয়াশ করে এই পাথর ব্লক তৈরির কাজে লাগানো হয়ে থাকে। তার কথামত শতভাগ না হলেও ৯৫ % কাজ ভালো হচ্ছে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা