ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাটে কার্তিক মাসে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় বিপাকে পড়েছেন আমন ধানচাষিরা। হেমন্তের এ সময়ে ধানের শীষ পুষ্ট হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হলেও বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জমি। কোথাও কোথাও জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, ধানের পাতাও হতে শুরু করেছে হলদেটে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে উপজেলার হাজারো কৃষকের।
আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিক মাস শুরু হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। টানা অনাবৃষ্টি ও তীব্র রোদে গোয়াইনঘাটের বিস্তীর্ণ রোপা আমন ধানের মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আবাদ হওয়া উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৫১, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘৫১ ধান’, নিয়ে বেশি শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। এ জাতের ধানগাছে থোড় থেকে শীষ বের হওয়া এবং ধান পুষ্ট হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানির অভাব দেখা দেওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন আমন ধানের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদে জমির মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে ফেটে গেছে। কোথাও কোথাও ধানগাছের পাতা হলদেটে ও বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। ধানের শীষ পুষ্ট হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বিকল্প সেচের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষক বৃষ্টির আশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করার সক্ষমতা থাকায় গোয়াইনঘাটে ব্রি ধান-৫১ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়। ভালো ফলনের আশায় তাঁরা সার, কীটনাশক ও জমির পরিচর্যায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু ধানের শীষ বের হওয়ার এ সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় তাঁদের বিনিয়োগ ও প্রত্যাশিত ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রণি বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে বৃষ্টি হলেও এবার তা হচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের অবস্থা ভালো রয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হবে।
সময়মতো বৃষ্টি না হলে আমন ধানের ফলন কতটা ব্যাহত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত বৃষ্টি হলে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরে আসবে এবং রক্ষা পাবে তাঁদের সারা বছরের পরিশ্রম।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




