ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নে মেঘালয় টি এস্টেটের জমি জরিপের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাঁচ মৌজার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেঘালয় টি এস্টেটের ইজারা বাতিল এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো ভূমি জরিপ বা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা না করার দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিংকি সাহার উপস্থিতিতে মেঘালয় টি এস্টেটের জমি জরিপ করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুপুর দেড়টার দিকে তাঁরা চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বনপাড়া-খেরিগুল সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি মেঘালয় টি এস্টেটের প্রধান ফটক থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তাঁরা।
নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চারিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ জালাল আহমদ। এতে বক্তব্য দেন ৩ নম্বর চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম, সিলেট জেলা তাঁতী দলের সদস্যসচিব আলতাব হোসেন বিলাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তফায়েল, ইউপি সদস্য মনির আহমদ, শামসুল হক, আব্দুল মালিক ও আজমল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মেঘালয় টি এস্টেটের ইজারা ও ভূমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ মৌজার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা এবং জমির সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্কেশন) ছাড়া কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করতে তাঁরা আগেও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের না জানিয়ে জমি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মেঘালয় টি এস্টেটের জমি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রথমে মাত্র ৩১টি পরিবারের বসবাসের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মুখে ৩৩১টি পরিবারের বসবাসের তথ্য এবং সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে ৯৩১টি পরিবারের বসবাসের বিষয়টি উল্লেখ করে ইজারা দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, ইজারার শর্তে এসব পরিবারকে উচ্ছেদ না করে প্রয়োজনে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল।
বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিস ও তহশিল অফিসের প্রতিবেদনেও সেখানে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষের বসবাসের তথ্য উঠে এসেছে বলে তাঁরা জানান। এসব বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাসকারী মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তাঁদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ধরনের জরিপ, উচ্ছেদ কিংবা ভূমি দখলের চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে নিজেদের মৌলিক অধিকার ও বসতভিটা রক্ষায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, মন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করে পাঁচ মৌজার মানুষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা এবং সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা না করার দাবি জানান তাঁরা।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে সভাপতি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না। শিগগিরই মন্ত্রীর উদ্যোগে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিংকি সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সেখানে কোনো ভূমি জরিপের জন্য তিনি যাননি; জায়গাটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মাত্র।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




