ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে হাসপাতালের বিদ্যমান অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, উন্নীতকরণ ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলা পর্যায়েই উন্নত ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটির নাম ‘বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহের অবকাঠামো নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, উন্নীতকরণ, নবরূপায়ণ এবং মেরামত ও সংস্কার কাজ’। ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০১ শয্যার ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), কিডনি ডায়ালাইসিস, চক্ষু চিকিৎসা ও ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের সুবিধা চালুর কথা রয়েছে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবার পাশাপাশি স্থাপন করা হবে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও আধুনিক অপারেশন থিয়েটার।
এসব সুবিধা চালু হলে নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করা, শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং হৃদরোগ, স্ট্রোক ও দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের জরুরি চিকিৎসা উপজেলা পর্যায়েই দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও অনেক ক্ষেত্রে কমবে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালের ভবনগুলোর নকশা এমনভাবে প্রণয়ন করা হবে, যাতে কোনো ফ্লোর স্পেস অব্যবহৃত না থাকে। ভবন নির্মাণে শক্তিসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
বর্তমানে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হাসপাতালের বর্ধিত ভবনটি ২০০১ সালের পর নির্মিত হলেও অপর ভবনটি বেশ পুরোনো এবং সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। কয়েক মাস আগে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিয়ানীবাজারসহ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




