ছবি:সংগৃহীত
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২৭২ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রান করেছে সফরকারীরা। ২৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আরও বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে ২৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭৯ রান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত ৯০ ওভার খেলা সম্ভব হয়নি। এদিন খেলা হয়েছে মাত্র ৬৪.৫ ওভার। দুই দলের মোট ১২টি উইকেটের পতন হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৬টি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৬টি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১ রানে তানজিদ হাসানকে হারানোর পর সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে ২৮ রানের মাথায় রোস্টন চেজের জোড়া আঘাতে বিদায় নেন সাদমান ও তাওহিদ হৃদয়।
এরপর নাজমুল হোসেনও চেজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনে খেলা শুরু হওয়ার পর প্রথম ওভারেই লিটন দাসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জোমেল ওয়ারিক্যান। ৪ রান করে ফেরেন লিটন। কিছুক্ষণ পর ৯ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজও ওয়ারিক্যানের বলে বোল্ড হন।
একপর্যায়ে ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে নাঈম হাসান ও জাকের আলী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ২৬ রান। দিন শেষে নাঈম ও জাকের দুজনই ১৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। চেজ ৩টি এবং ওয়ারিক্যান ২টি উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৫ রানে অলআউট হয়। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে তেজনারায়ণ চন্দরপল ৫৬ এবং জন ক্যাম্পবেল ৫৪ রান করেন। এ ছাড়া জাস্টিন গ্রিভস ৪৬ ও অধিনায়ক রোস্টন চেজ অপরাজিত ৪৩ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান ৩৩ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।
এ ম্যাচে নাঈম হাসান টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। বলের হিসাবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সাদমান ইসলাম ১০৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া তাওহিদ হৃদয় ৪২, লিটন দাস অপরাজিত ৩৪ এবং মুমিনুল হক ২৮ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান ৫৩ রানে ৫ উইকেট নেন।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে চতুর্থ দিনে দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করতে চাইবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে লিড আরও বাড়িয়ে সফরকারীদের সামনে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করানোই হবে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে নাঈম হাসান ও জাকের আলীর ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭২ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২৪৫ রান (তেজনারায়ণ চন্দরপল ৫৬, জন ক্যাম্পবেল ৫৪, জাস্টিন গ্রিভস ৪৬, রোস্টন চেজ ৪৩*; নাঈম হাসান ৪/৩৩, মেহেদী হাসান মিরাজ ২/৬৫, তাইজুল ইসলাম ২/৭৬)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২৯ ওভারে ৭৯/৬ (জাকের আলী ১৮*, নাঈম হাসান ১৮*, সাদমান ইসলাম ১৩; রোস্টন চেজ ৩/২৫, জোমেল ওয়ারিক্যান ২/১৯)। বাংলাদেশের লিড: ১০৬ রান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




