ছবি নিজস্ব
সিলেটের গোয়াইনঘাটে কার্তিকের মাঝামাঝি সময়ে এসে গত পরশু রাত ও আজ সকালে হঠাৎ নেমে আসা এক পশলা বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে কৃষকদের জীবনে। আমন ধানের শীষ বের হওয়া ও ধান পুষ্ট হওয়ার এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতির এই বৃষ্টিকে কৃষকরা সাধারণ বৃষ্টি নয়, বরং ‘আকাশ থেকে সোনা ঝরে পড়া’র সঙ্গেই তুলনা করছেন। পানির অভাবে যে ক্ষেতগুলোতে খরার শঙ্কা দেখা দিচ্ছিল, সেখানে এই বৃষ্টি এনে দিয়েছে স্বস্তি আর মুখে ফুটিয়েছে তৃপ্তির হাসি।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া রোপা আমনের ক্ষেতে ধানের শীষ এখন বাতাসে দোল খাচ্ছে। ধানগাছগুলোতে এখন শীষ বের হচ্ছে, কোথাও কোথাও ধানে চাল বা ‘দুধ’ আসার উপযুক্ত সময়। এমন সংকটময় মুহূর্তে সেচের তীব্র প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আকস্মিক এই বৃষ্টিতে সেচের বাড়তি খরচ থেকে বেঁচে গেছেন কৃষকেরা।
উপজেলার কৃষক মহিবুর রহমান আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি নয়, আল্লাহর রহমতে কৃষকদের জন্য সোনা হচ্ছে। অতিরিক্ত খরা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব নিয়ে তারা দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। কার্তিকের এই বৃষ্টিতে ধানের পাতা যেমন পরিষ্কার হয়েছে, তেমনি ক্ষতিকর মাজরা পোকা ও পোকার ডিম্বাণু অনেকাংশেই ধুয়েমুছে গেছে। ফলে কীটনাশক ব্যবহারের খরচও কমে আসবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোকমান জানান, কার্তিক মাসের বৃষ্টি আমন ধানের জন্য মহৌষধের মতো কাজ করে। এই সময়ের এক ফোঁটা পানি ফসলের ফলন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে উচ্চফলনশীল জাতের ধানের শীষ দ্রুত পুষ্ট হতে প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানির বিকল্প নেই। এতে করে ধানে ‘চিটা’ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
তিনি বলেন, কার্তিকের বৃষ্টি মূলত আমন চাষিদের জন্য প্রকৃতির এক বিরাট দান। মাঠজুড়ে সবুজের ঢেউ আর কৃষকের চোখে-মুখে সোনালি ফসলের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে কার্তিকের এই বৃষ্টি গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে দিয়েছে নতুন আশার আলো। সেচের বাড়তি বোঝা নেমে যাওয়ায় কৃষকের মনে এখন কেবলই তৃপ্তির ঢেঁকুর।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




