ছবি : সংগৃহীত
ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে শেষ ওভারে ২৬ রানের সমীকরণ মিলিয়ে রংপুর রাইডার্সকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছিলেন নুরুল হাসান সোহান। রংপুরের অধিনায়কের মতোই আজ নায়ক হওয়ার দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। কিন্তু সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষে পারলেন না বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে জিততে আজ শেষ ৬ বলে ২৫ রান প্রয়োজন ছিল রংপুরের।
অফ স্পিনার জিশান আলমের প্রথম দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ৪ বলে ১৩ রানের সমীকরণে নামিয়ে আনেন সাইফউদ্দিন। তবে পরের দুই বল ডট দিয়ে রাজশাহীকে ম্যাচে ফেরান জিশান। এতে বল কমলেও জয়ের জন্য আগের মতোই ১৩ রান দরকার পড়ে। পঞ্চম বলে সাইফউদ্দিন ৪ মারায় রাজশাহীর জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ বলে বাঁহাতি ব্যাটার ছক্কা হাঁকিয়ে শুধু পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমিয়েছেন।
২ রানে হারে তাই প্রতিশোধ নেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েও পারল না রংপুর। এর আগে টানা ৮ জয়ের পর সর্বশেষ ম্যাচে রাজশাহীর কাছেই প্রথম হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছিল রংপুর। মিরপুরে যখন দলের জয় নিশ্চিত হয় তখন রাজশাহীর আনন্দ যেন আর শেষ হয় না।
রোমাঞ্চকর জয়টি তাদের খুব প্রয়োজন ছিল। তাই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা বেশ কিছুক্ষণ আনন্দ উদযাপন করলেন। বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া জয় পাওয়া তো আর কম নয়। সঙ্গে লক্ষ্যটাও খুব বড় ছিল না। তবে দারুণ জয়ে রাজশাহীর খেলোয়াড়রা যেন বুঝিয়ে দিলেন মাঠের বাইরের কোনোকিছুই তাদের ম্যাচে প্রভাব ফেলেনি।
টানা দ্বিতীয় পরাজয় এড়াতে আজ লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না রংপুরের সামনে। পারিশ্রমিক দিতে না পারায় বিদেশি খেলোয়াড়দের ছাড়াই খেলতে নামা রাজশাহী আগে ব্যাট করে করতে পেরেছিল ১১৯ রান। রংপুরকে জিততে তাই ১২০ বলে করতে হতো সমান ১২০ রান। কিন্তু চার-ছক্কার এই যুগে ছোট্ট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং ধসে পড়ে রংপুর।
দলীয় স্কোর ৩০ পার না হতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়ায় রংপুর। প্রতিপক্ষকে এমন ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড় করান রাজশাহীর বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। পরে ১৯ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামলান খুশদিল শাহ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ব্যক্তিগত ১০ রানে খুশদিল আউট হলে পরে রাকিবুলের সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়েন সাইফউদ্দিন। ৯ম উইকেটে দুজনে দলের সর্বোচ্চ জুটি গড়লেও এ সময় ম্যাচ হাত থেকে অনেক দূরে সরে যায়। রাকিব ২০ রানে আউট হওয়ার পরেও শেষে ম্যাচটা জিতিয়েই দিচ্ছিলেন সাইফউদ্দিন। কিন্তু শেষটা আর মেলাতে পারলেন না তিনি। ৩১ বলে ৬ চার ৩ ছক্কায় তার ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংসটিও তাই কোনো কাজে আসেনি দলের।
জৈন্তাবার্তা / রহমান




