ছবি:সংগৃহীত
মানবসেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে রোটারি। নতুন রোটারি বর্ষ ২০২৬-২০২৭ উপলক্ষে সিলেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রত্যয় জানানো হয়।
বুধবার (১ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিপসা টিম বাংলাদেশের ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর ও প্রেস কনফারেন্স আহ্বায়ক পিপি অ্যাডভোকেট এম এ সালেহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৬-২০২৭ বর্ষের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির জন্য কাজ করুন’। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে স্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিশ্বব্যাপী রোটারিয়ানরা কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১২১ বছর ধরে রোটারি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাতৃ ও শিশুকল্যাণ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, রোগ প্রতিরোধ, শান্তি প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ৩৬ হাজারের বেশি রোটারি ক্লাবে প্রায় ১২ লাখ সদস্য মানবকল্যাণে যুক্ত রয়েছেন। রোটারি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ মানবিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোটারি ও গ্লোবাল পোলিও নির্মূল উদ্যোগের অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্বে পোলিও আক্রান্তের হার ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এ কর্মসূচিতে রোটারি ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। গত রোটারি বর্ষে বাংলাদেশের রোটারিয়ানরা পোলিও নির্মূল কর্মসূচিতে ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন।
এ সময় বক্তব্য দেন ডেপুটি কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর পিডিজি এম আতাউর রহমান পীর। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি, স্থানীয় নেতৃত্বে টেকসই উন্নয়ন এবং কার্যকর মানবসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব নেতৃত্ব বিকাশ, দুর্যোগকালীন সহায়তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রিপসার উদ্যোগে দেশে নৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রোটারির ইতিবাচক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া রোটারির নৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি ‘চারিধারা পরীক্ষা’ জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।
বক্তারা দেশের সব রোটারি ক্লাবকে আরও সক্রিয়, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোটারির মানবিক কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর পিডিজি এম আতাউর রহমান পীর, অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর পিপি জাকির আহমদ চৌধুরী, কোঅর্ডিনেটর (অ্যাডমিন) পিপি কামরুজ্জামান চৌধুরী রুম্মান, রোটারিয়ান পিপি সেলিনা চৌধুরী, পিপি সৈয়দ ফরহাদুর রব, পিপি আমিরুল ইসলাম, পিপি তুহিন আহমদ, প্রেসিডেন্ট বাহা উদ্দিন বাহারসহ অনেকে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




