সংগৃহিত
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আব্দুল কাদের (২৩) নামের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে হত্যার ঘটনায় তার বাবা, মা ও ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ফেনী জেলার সদর উপজেলার সাদাবপুর রেলগেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
52গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের লিটন (৪৮), তার স্ত্রী কাজল বেগম (৪২) ও তাদের ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০)।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার আব্দুল কাদের তার বাবা, মা ও ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ এনে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের চারদিন পর গত সোমবার সকালে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় এলাকার একটি খাল থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের মা কাজল বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে নিহতের বাবা ও ছোট ভাই পালিয়ে যান। পরে কাজল বেগমের দেওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে তারা ফেনী জেলার সদর উপজেলার সাদাবপুর রেলগেট এলাকায় ভবঘুরের ছদ্মবেশে অবস্থান করছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজমা আক্তার বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আব্দুল কাদেরের হাত-পা বেঁধে তাকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহ পুকুর থেকে তুলে রান্নাঘরের মেঝের নিচে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। তিন দিন পর মরদেহে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সোমবার মধ্যরাতের পর অটোরিকশাযোগে কুরকুটা এলাকা থেকে পদুয়ারপাড় এলাকার রাস্তার পাশের একটি খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




