ছবি সংগৃহীত
শীর্ষে থেকে শিরোপার দিকে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলো রিয়াল মাদ্রিদ; কিন্তু কি যে হলো তাদের! হঠাৎই এস্পানিওলের কাছে হার দিয়ে শুরু। এরপর ২, ২ করে ৪ পয়েন্ট অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং ওসাসুনার সঙ্গে ড্র করে। যার ফলে বার্সেলোনার পেছনে পড়তে হয় লজ ব্লাঙ্কোজদের। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও পয়েন্ট ছিল সমান।
এবার রিয়াল মাদ্রিদ আরও পিছিয়ে গেলো। রিয়াল বেটিসের মাঠে গিয়ে শিকার হলো অঘটনের। ২-১ গোলের হারে শিরোপা দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়লো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
এই পরাজয়ের ফলে ২৬ ম্যাচ শেষে রিয়ালের অর্জন থাকলো ৫৪ পয়েন্টই থাকলো। এমনিতেই ছিল ২য় নম্বরে। এবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (৫৬ পয়েন্ট) শীর্ষে উঠে যাওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদ চলে গেলো তিন নম্বরে।
ঘরের ছেলের কাছেই মূলত হারতে হয়েছে রিয়াল। লজ ব্লাঙ্কোজদের সাবেক মিডফিল্ডার ইসকো পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়াল বেটিসের ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
রিয়ালকে হারানোর পর ইসকো বলেন, ‘আমি একেবারেই ক্লান্ত-শ্রান্ত। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জেতা চাট্টিখানি কথা নয়। যাদের কাছে রয়েছে মিলিয়ন্স অব রিসোর্স। এটা খুবই কঠিন। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সেরা ক্লাবের বিপক্ষে জয় পেয়েছি, তাতেই আমি মহাখুশি। আশা করছি, এ বছরটা আমরা দারুণভাবে শেষ করতে পারবো।’
বেনিতো ভিয়ামারিনে শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদ প্রভাব বিস্তার করে খেলে আসছিলো। যার ফলশ্রুতিতে ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ব্রাহিম দিয়াজ করেন গোলটি।
৩৪ মিনিটে গোলটি পরিশোধ করে দেন জনি কারদোসো। এরপর ৫৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ইসকো।
আর্জেন্টাইনের গোলে লা লিগায় শীর্ষে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ : ছিল তৃতীয় স্থানে। সেই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এখন স্প্যানিশ লা লিগায় উঠে গেছে শীর্ষে। শনিবার রাতে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ১-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এই শীর্ষস্থান হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য। কারণ, আজই রিয়াল সোসিয়েদাদকে ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেবে বার্সা। আজই হয়তো শীর্ষে উঠে যাবে বার্সা।
মাদ্রিদের রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে প্রায় ৬৪ হাজার দর্শকের সামনে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে জয় এনে দেন আর্জেন্টাইন স্টাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে গোলটি করেন আর্জেন্টাইন এই তারকা।
এই জয়ে ২৬ ম্যাচ শেষে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। অ্যাথলেটিক ক্লাবের পয়েন্ট ৪৮; তারা রয়েছে টেবিলের চতুর্থ স্থানে।
প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারতো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। আন্তোনিও গ্রিজম্যানের পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক হেড নিয়েছিলেন আলেকজান্ডার সোরলথ। কিন্তু সেই হেডটি মিস হয়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে নাহুয়েল মোলিনার ক্রসে আরও একটি হেড নিয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার সোরলথ। এই হেডটিও মিস হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারতো অ্যাথলেটিক ক্লাব। দুই ভাই- নিকো এবং ইনাকি উইলিয়াম মিলে প্রায় গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
হুলিয়ান আলভারেজকে ৫৯তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় আলেকজান্ডার সোরলথের পরিবর্তে। মাঠে নেমেই ৬৬ মিনিটে অ্যাটলেটিকোকে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন। ম্যাচের শেষটাও খুব সহজ ছিল না অ্যাটলেটিকোর জন্য। বেশ কয়েকবার সমতায় ফেরার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলো বিলবাও। কিন্তু তাদের চেষ্টাগুলো প্রায় সবই বক্সের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচ শেষে আলভারেজ বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জয় ছিল এটা। আমরা সবাই জানতাম, ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না। আমরা এখানে এসেছি লড়াই করতে এবং জয় ছিনিয়ে নিতে। অনেকগুলো সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু গোল করেছি একটা। সেটাও এসেছে সৌভাগ্যক্রমে।’
জৈন্তা বার্তা/আরআর




