ছবি:সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে থাকা বিস্তীর্ণ জনপদে যাতায়াত ও মাছ ধরার প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা। ফলে উপজেলার বিভিন্ন নৌকার হাটে এখন জমে উঠেছে নৌকার বেচাকেনা।
সরেজমিনে জগন্নাথপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন নৌকার হাট ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষার শুরুতেই নৌকার চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় নৌকা তৈরির কারিগররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নৌকা তৈরির কারিগর কানাই সরকার জানান, রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বল ও আমগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি ডিঙি ও কোষা নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কাঠের মান ও আকার অনুযায়ী প্রতিটি নৌকা ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
নৌকা বিক্রেতারা জানান, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই নৌকার চাহিদা বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হাওরের পানি যত বাড়ছে, নৌকার ক্রেতার সংখ্যাও তত বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে জেলেরাও প্রয়োজন অনুযায়ী নৌকা কিনতে আসছেন।
হাটে আসা ক্রেতা রমিজ আলী বলেন, হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলে বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, মাছ ধরা কিংবা গবাদিপশুর খাবার সংগ্রহ-সব ক্ষেত্রেই নৌকাই মানুষের একমাত্র ভরসা। তবে কাঠ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার নৌকার দাম কিছুটা বেড়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন পানির আগমনে জগন্নাথপুরের নৌকার হাটগুলো এখন সরগরম। বেচাকেনা ভালো হওয়ায় বিক্রেতা ও নৌকা তৈরির কারিগরদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




