ছবি: নিজস্ব
গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক থেকে কদমতলা গ্রামে যাতায়াতের লক্ষ্যে নাইয়াদাড়া নামক স্থানে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করছেন গ্রামের লোকজন ও যানবাহন। গ্রাম ও হাওরে চলাচলের এই সেতু যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসী শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এমনকি যানবাহন চলাচলের সময় যেকোনো সময় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সেতুটি অপসারণ করে পুনরায় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১০-১১ অর্থবছরে নাইয়াদাড়া খালের উপর ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের কারণে সেতুটির নিচের মাটি সরে গিয়ে মধ্যখানে ভেঙে ঝুলে পড়ে। সেতুটি এই অবস্থায় রয়েছে বিগত তিন বছর যাবত।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বলছেন, সেতুটি তাদের তত্ত¡াবধানে তৈরি হলেও ২০২২ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নির্মাণের কয়েক বছরের মাথায় ধসে যায়। যেহেতু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, সেহেতু এখানে পুনরায় সেতু নির্মাণে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসীন্দা ইমাম ও রিয়াজ উদ্দীনসহ এলাকাবাসী জানান, ৩ বছর ধরে সেতুটির মধ্যাংশ দেবে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এই অবস্থায়ও ওই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ও কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট যান নিয়ে চলাচল করছে। আমন ও বোরো দুই মৌসুমে আশপাশের ৪/৫ গ্রামের মানুষের কৃষিকাজে উৎপাদিত ধান বাড়িতে নিয়ে আসা যাওয়ার একমাত্র ভরসা এই গ্রামীণ সড়ক। বর্তমান বর্ষায় এই সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। তারা এই জনপদে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রæত সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি সরকার বলেন, আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে সেতুটি পরিদর্শন করেছি। এই জায়গাটি বন্যাপ্রবণ হওয়ায় সেতুটি ধসে গেছে। এখানে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন। সেই মোতাবেক বন্যার পানি দ্রæত চলে যাওয়ার জন্য আরও ৫০ ফুট দীর্ঘ করে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




