গোয়াইনঘাটে নেই এসিল্যান্ড, ভো*গান্তিতে মানুষ
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০৪:৪৮ PM

গোয়াইনঘাটে নেই এসিল্যান্ড, ভো*গান্তিতে মানুষ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০/০৮/২০২৫ ০২:৩৬:৩৪ PM

গোয়াইনঘাটে নেই এসিল্যান্ড, ভো*গান্তিতে মানুষ


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য রয়েছে। এতে নামজারি ও জমা খারিজসহ ভূমিসংক্রান্ত নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশী মানুষকে।

জানা যায়, ৪৮২ দশমিক ৭১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মৌজা রয়েছে ২৬২টি। উপজেলায় প্রায় চার লক্ষ লোকের বসবাস। মোট জমির পরিমাণ ৪৮ হাজার ২৭৩ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি ২৮ হাজার ৫৫৩ হেক্টর আর চাষযোগ্য পতিত জমি ৬ হাজার ৫৪২ হেক্টর। ছোট-বড় হাওরের সংখ্যা ৬০টি। নদী-নালা, খাল-বিল, ছোট ছোট জলাশয়, গোচারণ ভূমি ও খেলার মাঠসহ আরও প্রায় দশ হাজার হেক্টরেরও বেশি ভূমি রয়েছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৬ মে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী ওই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততার কারণে ভূমি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, নিজ দপ্তরের কাজ সামলে ইউএনও ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তা জনগণের কষ্ট লাঘবে যথেষ্ট নয়। এ ছাড়াও সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় উপজেলার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খাসভূমি উদ্ধার, সরকারি জায়গায় থেকে পাথর-বালু লুটসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ভূমি সংক্রান্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারও মানুষ। ভূমি অফিসে প্রতিদিন নামজারি ও অন্যান্য সেবার জন্য ভিড় করছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রয়োজনে জমি কেনাবেচা করতে হয়। নামজারির জন্য একাধিকবার এসেও কাজ হচ্ছে না। কাজ কখন হবে কেউ বলতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় এসিল্যান্ড নাই। কখন এসিল্যান্ড আসবেন তাও তারা জানেন না। নামজারির জন্য আবেদন করে প্রতি সপ্তাহে খোঁজ-খবর নিয়েও সুরাহা পাচ্ছেন না সেবাপ্রত্যাশীরা। জরুরি ভিত্তিতে এই উপজেলায় একজন এসিল্যান্ড দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় সেবাপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার স্যারকে অবগত করেছি।

স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক সুবর্ণা সরকার বলেন, অনেক উপজেলায় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে পোস্টিং দেওয়া হয়। বিভাগীয় কমিশনার স্যারকে আমরা অবগত করেছি, গোয়াইনঘাট অত্যন্ত বড় উপজেলা আর সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় অসুবিধায় আছেন জনসাধারণ। তিনি জানিয়েছেন নতুন করে যাদের ট্রেনিং হচ্ছে, ট্রেনিং শেষ হওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গোইয়ানঘাট উপজেলায় শূন্য পদে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করা হবে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর