সিলেট-৪ আসনে জনসম্পৃক্ততায় ও ভোটারের পছন্দের তালিকায় হাকিম চৌধুরী
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১২:৫৬ AM

সিলেট-৪ আসনে জনসম্পৃক্ততায় ও ভোটারের পছন্দের তালিকায় হাকিম চৌধুরী

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩১/০৮/২০২৫ ০৬:১৪:০৭ PM

সিলেট-৪ আসনে জনসম্পৃক্ততায় ও ভোটারের পছন্দের তালিকায় হাকিম চৌধুরী

ছবি:নিজস্ব


সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন জাগো দলে যোগদানের মাধ্যমে তিনি রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করেন। তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের পরিক্ষিত একজন লড়াকু সৈনিক। রাজনীতির মাঠে পা রেখেছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্টতা সভাপতি হিসেবে।এরপর সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সফলতার স্বাক্ষর রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপির উপজেলা ও জেলা কমিটিতে। সিলেট জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, সহসভাপতি ও গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির আহবায়কের পদও রয়েছে তার ঝুলিতে। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যের।

প্রাকৃতিক সম্পদের অপূর্ব লীলাভূমি ও পর্যটনের ক্ষেত্রে অত্যান্ত সম্ভাবনাময় সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃতিসন্তান আব্দুল হাকিম চৌধুরী এবার নির্বাচন করতে চান সিলেট -৪ আসন থেকে।

এর আগে ২০১৮ সালে তিনি আসনটি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি কাজ করেন জোটপ্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দিলদার হোসেন সেলিমের পক্ষে। তবে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আব্দুল হাকিম চৌধুরী। সুখে-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় এলাকার মানুষও চাচ্ছেন তার হাতেই যেন শোভা পায় ধানের শীষ প্রতীক।

সূত্র জানায়, ১৯৭৮ সালে জাগো দলের হাত ধরে রাজনীতিতে নাম লেখান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। ১৯৮৯ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্টতা সভাপতির পদ লাভ করেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের নেতৃত্বে থেকে।

তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনে নিজের ত্যাগ ও সততার পরীক্ষায় উন্নিত হয়ে তিনি স্থান করে নেন সিলেট বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদ। ফলে তিনি উপজেলা থেকে উঠে আসেন জেলার রাজনীতিতে। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তিনি মাঠে প্রচারণায় নামেন। তরুণ যুবদলের নেতা  হিসেবে তিনি ওইসময় স্থানীয় ও জেলার নেতাদের নজর কাড়েন। ১৯৯২ সালে তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত এম এ হক,গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত সিরাজ উদ্দিন ও তৎকালীন গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ওসমান গনির সহযোগিতা নিয়ে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে সর্বপ্রথম সিলেট- ৪ আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার  উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শুভাগমন করেন। পরবর্তীতে এম সাইফুর রহমান সিলেট -৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ফলে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় সিংহভাগ উন্নয়ন পরিক্রমায় প্রয়াত মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।

সিলেট - ৪ আসনে প্রয়াত মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রার্থীতায় আব্দুল হাকিম চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। দলের প্রতি বিশ্বস্থতা ও দুঃসময়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার পুরস্কার হিসেবে তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে পুনরায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করে স্রোতের বিপরীতে অবস্থান করেও বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট -৪ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে তুমুল প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক এমপি প্রয়াত দিলদার হোসেন সেলিম।

তিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী প্রয়াত দিলদার হোসেন সেলিমের প্রতি আস্থা রেখে তার পক্ষে আন্তরিক ভাবে কাজ করেন। পরবর্তী ২০১৯ ও ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহনে বিএনপির দলীয় হাইকমান্ডের নিষেধ থাকায় তার জয় নিশ্চিত জেনেও নির্বাচনে অংশগ্রন থেকে বিরত থাকেন। গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার মানুষের কাছে আব্দুল হাকিম চৌধুরী কেবলমাত্র একজন রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত নন। একজন সমাজকর্মী, মানবিক মানুষ ও শালিস ব্যাক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। করোনা ও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় অসহায় মানুষের কাছে তিনি ত্রাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। কখনো নিজ উদ্যোগে আবার কখনো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহন,আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি কাজ করেছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়িয়েছেন অসংখ্য মামলায়। হাকিম চৌধুরী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে অসীম সাহস আর মনোবল নিয়ে। বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। সাহস যুগিয়েছেন কারান্তরিণ নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে।রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আব্দুল হাকিম  চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, শৈশব থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্ধুদ্ধ। রাজনীতির বিভিন্ন বাঁক পেরিয়ে এখন তিনি সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির সুবাদে তিনি গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকায় তিন উপজেলার মানুষ তাকে আপন করে নিয়েছে।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মানুষের সাথে তাঁর আরও সম্পৃক্ততা বেড়েছে। অবহেলিত গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলাবাসী এবার চাইছে তাদের প্রকৃত দরদী একজন নেতাকে শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দলের প্রার্থী হিসেবে। সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও দলীয় নেতাকর্মীদের উৎসাহে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন। দল তার প্রতি আস্থা রাখলে  সিলেট -৪ আসনটি তিনি বিএ

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা