প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের মাঝে বি প ন্ন শাবির লেকের পরিবেশ
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১১:৪৬ PM

প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের মাঝে বি প ন্ন শাবির লেকের পরিবেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত: ০২/০৯/২০২৫ ০১:০৩:০৮ AM

প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের মাঝে বি প ন্ন শাবির লেকের পরিবেশ

ছবি: নিজস্ব


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নান্দনিকতার অন্যতম উপাদান হলো কিলোরোড সংলগ্ন লেকসমূহ। সম্প্রতি বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের পেছনে নতুন একটি লেক নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের এক চমৎকার সমন্বয় তৈরি হয়েছে। তবে সৌন্দর্যের আড়ালে ভর করছে দূষণ আর জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের শঙ্কা।

বর্তমানে রাস্তার পাশের লেকগুলোর পানি ঘন কালো হয়ে পড়েছে। সেখানে নেই কোনো জলজ উদ্ভিদ বা প্রাণী। প্রতিদিন স্টাফ কোয়ার্টার ও আশপাশের এলাকার (সোনালী আবাসিক এলাকা) ব্যবহৃত পানি ভিসি বাংলোর পাশের নিচু জমি হয়ে পুরাতন ও নতুন লেকে প্রবাহিত হচ্ছে। শীতকালে জারুল ও মেহগনি গাছের ঝরা পাতা পানিতে জমে পচন ধরায় নাইট্রোজেন ও ফসফরাস উৎপন্ন হয়। এর ফলে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন হ্রাস পায় এবং শেষ পর্যন্ত জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাতা ঝরা মৌসুমে আংশিক নেটিং, ঝুলন্ত জাল বা ভাসমান বুয়ি ব্যবহার করলে পাতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একইসাথে ঝরা পাতাকে বায়োচার বা সার উৎপাদনের গবেষণা প্রকল্পেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে এস্টেট কর্মকর্তা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হাসনাত বলেন, “নতুন লেকে পানি প্রবাহের একাধিক পথ বন্ধ করে একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত পথ রাখা দরকার। পাশাপাশি জারুল ও মেহগনির পাতা পচে তৈরি হওয়া বিষাক্ত মাটি অপসারণ করতে হবে। দূষিত পানি ঠেকাতে বিকল্প খাল খনন করা যেতে পারে, যা আবাসিক এলাকা থেকে ময়লা পানি সংগ্রহ করে কিলোরোডের নিচ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান খালে প্রবাহিত হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ভিসি বাংলোর পেছনের নিচু জমিকে জলচর পাখির অভয়াশ্রমে রূপান্তর করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, লেকপাড়ে শাপলা, লিলি ও কচুরিপানা রোপণ করলে জলজ কীটপতঙ্গ বাড়বে, যা অতিথি পাখির খাদ্য হিসেবে কাজ করবে। একইসাথে শীত মৌসুমে (ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি) ‘পাখি সুরক্ষা অঞ্চল’ ঘোষণা ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র সাত্তার বলেন, “আমাদের দেশে পরিযায়ী পাখিরা সাধারণত ডাকপিস জাতীয় জলজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে আসে। লেকে ডাকউইট বা টোপা পানা স্থাপন করা হলে শুধু অতিথি পাখি নয়, দেশীয় সরাল পাখিও আকৃষ্ট হবে।”

শিক্ষার্থী, প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাবছর লেকের পানি দূষণমুক্ত রাখলে স্বাভাবিকভাবেই জলজ প্রাণী ও অতিথি পাখির সংখ্যা বাড়বে। তখন শাবিপ্রবির লেক শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং জীববৈচিত্র্যের জন্য এক আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার / ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি থেকে