ছবি: নিজস্ব
সিলেট নগরের রায়নগরে ২৬ শতক জমি জবরদখল ও হুমকির অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন রায়নগর ব্রজনাথটিলার রণকেলী ভিলা সবুজ ১৯ নম্বর বাসার বাসিন্দা পারভেজ আহমদ চৌধুরী ও তার সহোদর আদনান আহমদ চৌধুরী।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা বলেন, আমরা এমন মিথ্যা অভিযোগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং ভবিষ্যতে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার করলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
লিখিত বক্তব্যে আদনান আহমদ চৌধুরী বলেন, গত ২৬ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে জনৈক ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন যা পরদিন ২৭ আগস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এতে আমরা তিন ভাই পারভেজ আহমদ চৌধুরী, আদনান আহমদ চৌধুরী ও তৌহিদ আহমদ চৌধুরীকে অভিযুক্ত করে বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করা হয়। যা আমাদেরকে সামাজিকভাবে মারাত্মকভাবে হেয় করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের পিতা-মাতার জীবদ্দশায় স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ১৯৬৪ সাল থেকে খরিদ সূত্রে মালিকানায় বাউন্ডারি দেওয়াল ও বাড়ী নির্মান করে ভোগ দখলদার হিসেবে বিদ্যমান আছি। বাড়ির সীমানার অভ্যন্তরীণ দক্ষিণাংশে এসএ খতিয়ান নং- ২৮১৯, সিলেট মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার জেএল নম্বর-৯১ এর ১০২৮৪ নম্বর দাগের ১৫ শতাংশ নিয়ে অবস্থিত। আমরা খরিদ সূত্রে এই ১৫ শতাংশ জমি ভোগদখল করছি। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে ২৬ শতাংশ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, দাগের রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন তাম্র সিংহের ছেলে নবকুমার সিংহ। নবকুমার সিংহ নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে প্রযোজ্য হিন্দু সম্পত্তি দায়ভাগ আইন অনুযায়ী তার সমুদয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন তার একমাত্র ভাই ইন্দ্রকুমার সিংহ। আমাদের বাবা মতিউর রহমান চৌধুরী ১৯৬৪ সালে বায়নামা এবং পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের সাফকাবালা দলিলমূলে ইন্দ্রকুমার সিংহ এর কাছ থেকে দাগের ২৬ শতক ভ‚মি থেকে ১৫ শতক ভ‚মি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে বাউন্ডারী সীমানা ও বাড়ী নির্মাণ করে নিয়মিত পৌর কর, হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি।
তিনি আইনগত কিছু জটিলতার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ক্রয়কৃত জমি সিলেট নিষ্কর এলাকা সংক্রান্ত ভ‚মির নামজারির আবশ্যকতা না থাকায় আমাদের পিতা জীবিতকালে জমির নামজারী করেননি। ১৯৯২ সালে আমাদের বাবার আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। আমরা নামজারি না হওয়ার বিষয়টি জানার পর এসিল্যান্ডের কাছে ১৯৯৪ সালে নামজারি মোকদ্দমা দায়ের করি। তৎকালীন এসিল্যান্ড জনৈক আসহাব উদ্দিন আহমদের দায়েরকৃত ৮১/১৯৮৮ ইং মামলার রায়ের উল্লেখ করে আমাদের নামজারির আবেদন প্রকৃত মালিকানা যাচাই না করে একতরফাভাবে খারিজ করে দেন। তিনি সরেজমিন তদন্ত করেননি। অথচ, আমাদের বাবা মতিউর রহমান চৌধুরী অনেক আগে থেকে ভ‚মিতে বাউন্ডারি দেওয়াল ও ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন।
আদনান আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা বিভিন্ন স্থানে চাকুরিতে ছিলাম তাই ব্যস্ততার কারণে মামলাটি সঠিক শুনানীর সুযোগ হয়নি। ফলে এটি খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আদালতে আপিল করলে বর্তমানে সুপ্রীমকোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইন্দ্রকুমার সিংহ এবং তার পরবর্তীতে ৪ ছেলে জীবিত থাকাকালীন এই ভ‚মি নিয়ে কোনো বিরোধে জড়াননি এবং কোর্টে মালিকানা দাবি করে কোন মামলা মোকদ্দমাও রুজু করেননি। কিন্তু বর্তমানে নামজারী মোকদ্দমাতে তার তৃতীয় প্রজন্মের বিজন কুমার সিংহ গং কিছু প্রতারক চক্রের যোগসাজাশে লোভের বশবর্তী হয়ে দাবি করছেন- ইন্দ্রকুমার সিংহ ১৫ শতক ভ‚মি আমাদের পিতা মাতার কাছে বিক্রি করেননি। তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে আমাদের নামজারী মোকদ্দমা নস্যাৎ করার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন।
এমন হীন উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে আসছি। বিজন গং এর মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার আমাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্মান ও মান মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে। তারা দাবি করছে- আমরা নালিশা ভ‚মির ২৬ শতক জবরদখল করিয়া আছি। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমরা শুধুমাত্র আমাদের ক্রয়কৃত ১৫ শতক ভোগদখল করে আসছি। তাদেরকে হত্যার হুমকির অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং সত্যের অপপ্রলাপ।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




