ওসমানীনগরে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৪:১১ PM

ওসমানীনগরে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

আতাউর রহমান কাওছার, ওসমানীনগর

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৫ ১০:২৩:৫২ PM

ওসমানীনগরে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

ছবি: নিজস্ব


সিলেটের ওসমানীনগরে শেষ মুহূর্তেও আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  কোমর বেঁধে মাঠে নেমে চারা রোপণ করছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকেরা সময়মতো জমি তৈরি করে চারা রোপণ করতে পারছেন। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আমনের আবাদ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ চলছে পুরোদমে। শ্রমিক ও সার সংকট থাকলেও কৃষকেরা হাল ছাড়ছেন না। বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ বাঁচায় কৃষকেরা পেয়েছেন বাড়তি স্বস্তি। অনেকেই আগে থেকেই শুকনো জমি চাষ করে রেখেছিলেন, যাতে বৃষ্টির পরপরই চারা রোপণ করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত প্রায় সব জমিতে রোপণ শেষ হয়েছে । আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কৃষি প্রণোদনা হিসেবে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ বছর ১ হাজার ৯০০ জন কৃষকের মধ্যে ৫ কেজি করে আমন বীজ ও ২০ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের জহিরপুর গ্রামের কৃষক বুলু মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে সেচে খরচ কমেছে। এতে আমাদের কিছুটা খরচ বেঁচে যাবে। শুধু সার ও শ্রমিকের দাম একটু কম হলে আমরা আরও লাভবান হতে পারতাম।

তাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হক জানান, এবার বৃষ্টিপাত ভালো হওয়ায় চারা রোপণে কোনো সমস্যা হয়নি। শ্রমিক সংকট থাকলেও আমরা নিজেরা মাঠে নেমে কাজ করছি। আশা করছি, গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভালো হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা বলেন, ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ  হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং ফলনও ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি আরও জানান, “কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে ১ হাজার ৯০০ জন কৃষকের মধ্যে ৫ কেজি করে উন্নতমানের আমন বীজ ও ২০ কেজি করে সার দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকেরা অনেক উপকৃত হয়েছেন।”

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার