সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সেলিম উদ্দিন ও এহসান আহমদকে 'মিথ্যা' শিশু ধর্ষণের মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়ন উত্তর গোয়াসপুর রুইঘর গ্রামবাসীর উদ্যোগে গোলাপগঞ্জের চৌমুহনীতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর গোয়াসপুর রুইঘর গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রবীণ সেলিম উদ্দিন ও তার ভাগ্নে এহসান আহমদসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তির নামে শিশু ধর্ষণের ব্যাপারে থানায় যে অভিযোগটি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বিবাদী পক্ষের সাথে বাদী পক্ষের ঝামেলা চলছে। বাদী নারী খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ।
বিবাদীর কাছে বাদী ১০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন এমন দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, টাকা না দেওয়ায় তারা মূলত সেলিম উদ্দিনের পরিবারকে ফাঁসাতে ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য ধর্ষণের নাটক সাজিয়েছেন।
তরুণ সমাজসেবক এমরান আহমদ বলেন, প্রকৃতপক্ষে যে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ জানিয়ে মামলা করা হয়েছে আমরা তার পক্ষে দাঁড়ানোর কথা। কিন্তু আমরা গ্রামবাসী জানতে পারলাম তাদের পারিবারিক ঝামেলাকে কেন্দ্র করে শিশুর মা মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আজ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা চাই প্রশাসন তদন্ত করে এর সঠিক বিচার করুক। আমাদের গ্রামে একটা অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য বাদী এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন রুইঘরে শিশু ধর্ষণ মামলার অভিযোগে সেলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। যাচাই-বাছাই করেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রাইঘরে চাচা কর্তৃক ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগ করে শিশুর মা বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় সেলিম মিয়া ও তার সহযোগী এহসান আহমদসহ আরও দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/(৯)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে সেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




