স্বাধীন সাংবাদিকতা যেমন দরকার, তেমনি হলুদ সাংবাদিকতা রো'ধ করা অপরিহার্য
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০২:০৪ PM

আলোচনা সভায় সিকৃবি ভিসি ড. আলিমুল ইসলাম

স্বাধীন সাংবাদিকতা যেমন দরকার, তেমনি হলুদ সাংবাদিকতা রো'ধ করা অপরিহার্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত: ১৩/০৯/২০২৫ ০৮:০৪:২৬ PM

স্বাধীন সাংবাদিকতা যেমন দরকার, তেমনি হলুদ সাংবাদিকতা রো'ধ করা অপরিহার্য

ছবি: নিজস্ব


সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেছেন, সিলেটের সমৃদ্ধ সাংবাদিকতার ইতিহাস রয়েছে। যদিও, আজকাল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অপব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এটা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতির কারণ। তাই, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন তেমনি সাংবাদিকদের নৈতিক স্থলন ও হলুদ সংবাদিকতা রোধ করা অপরিহার্য।

শনিবার সকালে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি ।

অনুষ্ঠান শেষে ২০২৩ সালের জন্য সিলেটের ১১ জন প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে ইউনেস্কো ক্লাব সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৩ প্রদান করা হয়। ইউনেস্কো ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপিকা সৈয়দা মিনুফার নাসরিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি আরও বলেন, সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পন। আজকাল বস্তুনিষ্ট সংবাদের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অপব্যবহার করছেন। এটি সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার জন্য খুবই বিপজ্জনক।

বিগত ১৭ বছরে সারাদেশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন বন্ধ করে দিয়ে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। দৈনিক আমার দেশ, দিনকাল পত্রিকা, দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। এই ধরনের আচরণ দেশের জন্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকির কারণ।

শুধু সংবাদপত্র নয়, দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়েও ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন সিকৃবি ভিসি। তিনি জানান, সিলেট কৃষি বিদ্যালয় ছিল সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের স্বপ্নের একটি প্রতিষ্ঠান। মাত্র ৫০ একর জায়গায় তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নিজের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান থেকে সাইফুর রহমানের নাম মুছে দেয়। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটি পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গত এক বছরে সিকৃবির নানা উদ্যোগ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ভিসি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন, ইউনেস্কো ক্লাবের মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি খালেদ আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মালিক জাকা ও আব্দুল কাদের তাপাদার। অনুষ্ঠান শেষে সিলেটের ১১জন প্রতিশ্রæতিশীল সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে ইউনেস্কো ক্লাব সাংবাদিকতা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক ব্যুরো প্রধান, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মালিক চৌধুরী, দৈনিক সংলাপের সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, দৈনিক সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক আবদুল হামিদ মানিক, চ্যানেল এস ইউকে’র বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল মালিক জাকা, বাংলাদেশ বেতারের মহানগর প্রতিনিধি মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক সিলেট বাণীর ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতা, দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান আব্দুল কাদের তাপাদার, দৈনিক আমার দেশ’র সিলেট ব্যুরো প্রধান খালেদ আহমদ, এনটিভি’র সিনিয়র ক্যামেরা জার্নালিস্ট আনিস রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিলেট প্রতিনিধি শুয়াইবুল ইসলাম ও দেশ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি খালেদ আহমদ।

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার