ছবি: জৈন্তা বার্তা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের লাখেরপাড় এলাকা পরিণত হয়েছে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের ‘হটস্পটে’। প্রশাসনের নীরবতা ও উদাসীনতার সুযোগে দিনদুপুরে চলছে ফেলুডার ও বোমা মেশিন দিয়ে বালু–পাথর উত্তোলন। ভয়ভীতি ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে মুখ খুলতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়-জাফলং লাখেরপাড় আসামপাড়া সামাজিক কবরস্থান, মসজিদ, বসতবাড়ি এবং ফসলি জমি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। মৃত আব্দুছ সাত্তারের ছেলে আব্দুল মুতালেব এবং হাসমত আলীর ছেলে সাজুসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করে আসছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মুতালেব গং বালু–পাথর উত্তোলনের সুবিধা নিতে ২১ লাখ টাকা দিয়ে একটি বসতবাড়ি কিনে নিয়েছেন। অবৈধ উত্তোলনের কারণে ওই বাড়িটি এখন ঝুলন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাজুড়ে আরও বেশ কিছু জায়গায় রাত–দিন ফেলুডার ও বোমা মেশিন দিয়ে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সরকারি বন্দোবস্তকৃত জমি ধ্বংস করে বালু-পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রভাবশালী লাঠিয়াল বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় চলছে, ফলে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একটি ১২৫ ফুটের বালুভর্তি গাড়ি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান সাইটে দায়িত্বে থাকা একজন শ্রমিক।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এসব স্থানে সরকারের বন্দোবস্তকৃত গুরুত্বপূর্ণ জমিও রয়েছে, যা অবৈধভাবে খনন করে ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মুতালেব বলেন,‘এটা আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তি। আমি সরকারবাদি মামলা খেলতেছি, সরকার থেকেও রায় পেয়েছি। সবাই তো খাইতেছে, আমিও তার উসিলায় সাত–আট শতক জায়গা খাইছি। বাকি গর্তটা হাসমতের ছেলে সাজু খাইছে।’
জাফলং বিট অফিসার তানজিল হোসেন বলেন,‘মুতালেবসহ কয়েকজনের নামে অভিযোগ রয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন,‘ এ বিষয়ে পূর্ব থেকেই মামলা রয়েছে। আইনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




