শেরপুরে টর্নেডোর আঘাতে বৃদ্ধা নি হ ত, বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৬:৩৩ PM

শেরপুরে টর্নেডোর আঘাতে বৃদ্ধা নি হ ত, বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/০৫/২০২৬ ০৫:১৬:২৮ PM

শেরপুরে টর্নেডোর আঘাতে বৃদ্ধা নি হ ত, বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত

সংগৃহিত


শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কালবৈশাখী চলাকালে সৃষ্ট টর্নেডোর আঘাতে গাছচাপা পড়ে বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এ টর্নেডোতে উপজেলার বিভিন্নস্থানে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় অর্ধশত কাঁচা ও টিনশেড ঘর।আজ শনিবার সকাল পৌঁনে ৯টার দিকে উপজেলার নন্নী পশ্চিম পাড়ায় নিহতের ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধা ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় আনুমানিক পৌঁনে ৯টার দিকে আকস্মিক টর্নেডো আঘাত হানে। দেড় থেকে দুই মিনিটের এই টর্নেডোর ছোবলে নন্নী পশ্চিম পাড়ায় রান্না করার সময় একটি গাছ ঘরের ওপর উপড়ে পড়লে ওই গাছের নিচে চাপা পড়ে বেগম নামে এক বৃদ্ধা নিহত হন। 

উপজেলার পোড়াগাঁও, নন্নী, রাজনগর, নয়াবিল ও যোগানিয়া ইউনিয়ন হয়ে বেশকিছু গ্রামের ওপর দিয়ে এই টর্নেডো বয়ে গেছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশত কাঁচা ও টিনশেড ঘরের চালা উড়ে গেছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শতশত গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে তার ছিঁড়ে বেশকিছু এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল্লাহ জানান, নন্নী পশ্চিম পাড়ায় গাছের নিচে চাপা পড়ে বৃদ্ধা বেগম মারা গেছেন।

নন্নী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুর রহমান রিটন বলেন, ‘বৃষ্টির সময় ঘরেই বসা ছিলাম। হঠাৎ টর্নেডো ছোবল মারলে মনে হচ্ছিল আমার পাকা বাড়ি উড়িয়ে নেবে। একটু পর বাইরে বেরিয়ে দেখি, আশপাশের কয়েকটি কাঁচা বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে।’ নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, টর্নেডোর আঘাতে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একইসাথে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, হঠাৎ করে টর্নেডোর আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেগম নামে একজন বৃদ্ধা মহিলা নিহত হয়েছেন। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তার দাফনের জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার সার্বিক খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের পর ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা