ছবি:সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের আগের দিন সিলেটে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করে উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
বিকেল প্রায় সোয়া তিনটার দিকে মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা জেলার বিভিন্ন আসনে বিএনপি প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পরিবেশ অস্থির করার অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সিলেট-১ আসনে জামায়াতের এজেন্ট ও কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব হুমকির পেছনে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্র জড়িত, যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ওপরও নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাংবাদিকদের নামে ইস্যুকৃত পাসকার্ড কিছু রাজনৈতিক নেতা অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এসব কার্ড ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইতোমধ্যে দুজনের পাসকার্ড বাতিল করেছেন এবং কেবল প্রকৃত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে সিলেট-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর একটি বক্তব্য নিয়েও জামায়াত আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, বোরকা পরিহিত নারী ভোটারদের বিষয়ে প্রার্থীর মন্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
জামায়াত প্রতিনিধিদল চলে যাওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে একই কার্যালয়ে যান বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানান, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরিফুল হক বলেন, তিনি কখনো বোরকা খুলে ভোটকেন্দ্রে আসার কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্বাচন কর্মকর্তারা যাতে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ ‘রং মেসেজ’ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এমনকি একজন পরিচিত আলেমের কণ্ঠ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নারী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও একজন মুসলিম। পর্দার বিরোধিতা করার প্রশ্নই আসে না। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।’
এদিকে জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




