চুনারুঘাটের চা-বাগানে এমপি ফয়সলের নেতৃত্বে চলছে উন্নয়ন কাজ
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০২:৫৩ PM

চুনারুঘাটের চা-বাগানে এমপি ফয়সলের নেতৃত্বে চলছে উন্নয়ন কাজ

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/০৫/২০২৬ ০১:২৮:১০ PM

চুনারুঘাটের চা-বাগানে এমপি ফয়সলের নেতৃত্বে চলছে উন্নয়ন কাজ


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানে দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে লাগছে উন্নয়নের ছোঁয়া। হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে উপজেলার একাধিক চা-বাগানে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সুপেয় পানির বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে চা শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি, চান্দপুর, রামগঙ্গা, চাকলাপুঞ্জি, লালচান্দ, নাসিমাবাদ ও লস্করপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানে ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কোথাও ড্রেন নির্মাণ, কোথাও রাস্তার ইট সলিং, আবার কোথাও বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার শ্রমিকরা কাদা-পানিতে চলাচল করেছেন। জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ সংকটে ভোগান্তি পোহালেও এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে।

দেউন্দি চা-বাগানে গাইড ওয়াল ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চান্দপুর চা-বাগানে বাজার পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রামগঙ্গা চা-বাগানে দুর্গা মন্দিরের পেছনে ড্রেন নির্মাণের ফলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে চাকলাপুঞ্জি চা-বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। লালচান্দ ও নাসিমাবাদ চা-বাগানের প্রধান সড়কে ইট সলিংয়ের কাজ চলায় শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ হচ্ছে। লস্করপুর চা-বাগানে মন্দির থেকে আবাসিক এলাকা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজও এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, চা শ্রমিকদের সুপেয় পানির সংকট দূর করতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি চা-বাগানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে বহু শ্রমিক পরিবার নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছে। আগে বিশুদ্ধ পানির জন্য অনেক দূরে যেতে হতো, এখন সেই কষ্ট অনেকটাই কমেছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা-বাগান এলাকাগুলো উন্নয়নের বাইরে ছিল। বর্তমান উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং শিশুদের শিক্ষার পরিবেশও ভালো হবে।

চা শ্রমিক নেত্রী খাইরুন আক্তার জানান, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এমপি সৈয়দ ফয়সলের কনিষ্ঠ ছেলে শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বিভিন্ন চা-বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিকদের কষ্ট ও দুর্দশার চিত্র সরেজমিনে দেখেছেন। তিনি শ্রমিকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমপি ফয়সল ও তাঁর ছেলে সাধারণ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

আগে চা-বাগান এলাকাগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া খুব কমই ছিল। বর্ষাকালে কাদা-পানির কারণে চলাচল বন্ধ হয়ে যেত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। এখন ধীরে ধীরে সমস্যাগুলোর সমাধান হতে শুরু করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও অবহেলিত এলাকাগুলোকে উন্নয়নের আওতায় আনা তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি চুনারুঘাট ও মাধবপুরের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

জৈন্তা বার্তা/আরআর