মা দিবসে ছেলেকে কিডনি দান করলেন মা
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১১:১০ PM

মা দিবসে ছেলেকে কিডনি দান করলেন মা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৫/২০২৬ ০৯:৩১:২৮ PM

মা দিবসে ছেলেকে কিডনি দান করলেন মা

সংগৃহিত


মা দিবসের রাতেই ছেলেকে নতুন জীবন উপহার দিলেন এক মা। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার প্রধান শিক্ষক নাছিমা সুলতানা নিজের একটি কিডনি দান করেছেন ছেলে নাছিম জাহানকে (২৮)। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভোগা ছেলেকে বাঁচাতে নিজের শরীরের অঙ্গ দিতেও এক মুহূর্ত দ্বিধা করেননি তিনি।

রোববার (১০ মে) বিশ্ব মা দিবসের রাতে রাজধানীর শ্যামলীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসক কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মা ও ছেলের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তারা দুজনই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

নাছিমা সুলতানা শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার খলিফাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাঁর গ্রামের বাড়ি জাজিরা পৌরসভার উত্তর বাইকশা এলাকায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাছিমা। স্বামী বি এম শাহজাহান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চলছিল তাঁদের সংসার। ২০১৯ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শাহজাহান। এরপর সন্তানদের নিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যান এই মা।

২০২৫ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কুয়েতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ছেলে নাছিম জাহান। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার মাত্র সাত দিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, তাঁর দুটি কিডনিই পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। বাঁচিয়ে রাখতে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছিল।

ছেলের এমন অবস্থায় ভেঙে না পড়ে বরং সাহসী সিদ্ধান্ত নেন মা নাছিমা সুলতানা। নিজের একটি কিডনি ছেলেকে দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেন।

নাছিমার মেয়ে সিফাত জাহান বলেন, 'মা আমাদের অনেক ভালোবাসেন। ভাইকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছেন। মা যে সন্তানের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিতে পারেন, সেটাই তিনি আবারও প্রমাণ করলেন।'

খলিফাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খান মাসুদ বলেন, 'নাছিমা সুলতানা চিকিৎসাজনিত ছুটিতে আছেন। সন্তানকে বাঁচাতে নিজের অঙ্গ দান করে তিনি সত্যিই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।'

মা দিবসে এক মায়ের এই আত্মত্যাগের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসার চেয়ে বড় কিছু পৃথিবীতে নেই।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ