প্রতীকী ছবি
সিলেটের কানাইঘাটে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ফারহানা বেগম নামে তিন সন্তানের জননীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ১ম খণ্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়বন্দ ১ম খণ্ড গ্রামের সোহেল আহমদের সঙ্গে কয়েক বছর আগে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামের ফারহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সোহেল প্রায়ই ফারহানার ওপর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফারহানার পরিবারের সদস্যরা জানান, নির্যাতনের কারণে দুইদিন আগে ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে সোমবার (২৭ এপ্রিল) তিনি তার মামার বাড়ি দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে রাতে সোহেল আহমদ ও তার এক চাচাতো ভাই সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গভীর রাতে ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের ভাই সেলিম উদ্দিন জানান, তার বোনের স্বামী সোহেল একজন মাদকাসক্ত। তিনি প্রায়ই ফারহানাকে মারধর করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে তার বোন প্রায়ই বাবার বাড়িতে চলে আসতেন। সর্বশেষ আবারও মারধরের পর তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সোমবার তার বোন দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামের মামার বাড়িতে যান। রাতে মামার বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারহানা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সোহেল আহমদকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




