ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে মহাসংকটে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে এবার হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে না পারা ও শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন কৃষকরা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অকাল বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দ্রুত ধান কাটার জন্য আহ্বান জানালে কৃষকদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
সোমবার নলুয়ার হাওর ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ফসল উত্তোলন নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার কথা জানা গেছে। হাওরে দেখা গেছে, পাকা ধানের সোনালি শীষ দুলছে। কিছু কিছু কৃষক শ্রমিক দিয়ে ধান কাটছেন। আবার কেউ কেউ পাকা ধান কাটার জন্য শ্রমিকের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
হাওরে কথা হয় চিলাউড়া গ্রামের কৃষক গোলাপ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার নলুয়া হাওরে ৪৫ কেদার (৩০ শতাংশে এক কেদার) জমিনে বোরো ফসল আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু ফসল কর্তন নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছি। শ্রমিকের সংকটের কারণে যথাসময়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। এর মধ্যে জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় ধান কাটার মেশিন (হারভেস্টার) নামানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুজির পর কয়েকজন শ্রমিক পেয়ে ধান কাটা শুরু করেছি।
শেরপুর এলাকার কৃষক আব্দুল গণি বলেন, পাকা ফসল নিয়ে বিপাকে আছি। জমিতে পানি থাকায় ধান কাটার মেশিনে কাজ করা সম্ভব নয়। ধান কাটার শ্রমিকেরও সংকট। অনেক কষ্ট করে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আজ কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছি। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এবার হাওরের কৃষকরা ভালো নেই। এ বছর ২২ কেদার জমিনে ফসল ফলিয়েছি। এর মধ্যে ৮ কেদার জমির ধান কাটা হয়েছে।
জমির আলী নামের আরেক কৃষক বলেন, বৃষ্টির পানিতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বাকি ফসল তুলতে স্থানীয় ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার কাজ করছি। জমি থেকে এসব ধান পরিবহন নিয়ে পড়েছি মহাবিপদে। অবশেষে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে বাড়িতে ধান নিতে হচ্ছে।
দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী সুমন দাশ জানান, কৃষক বাবার পাশে দাঁড়াতে তিনি হাওরে ধান তুলতে এসেছেন। শ্রমিক সংকটের কারণে কেদার প্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা শুধু ধান কাটায় ব্যয় হচ্ছে। তেল সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে পরিবহন খরচ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ বছর ধান রোপণ থেকে উত্তোলন পর্যন্ত যে ব্যয় হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবে ধানের দামের মিল নেই।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা শামীম আহমদ জানান, সরকারিভাবে ধানের দাম ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও হাওরের ধান এখন ৮শ থেকে ৯শ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। একটি সিন্ডিকেট কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নিচ্ছে। এতে করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, এবার ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৪ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কিছুটা শ্রমিক সংকট রয়েছে।
তিনি বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। সরকারিভাবে নায্য দাম ঠিক করা হলেও মাঠ পর্যায়ে ধানের দাম কম রয়েছে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




