গোয়াইনঘাটে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে মাঠে আমন রোপণের ধুম, কৃষকের চোখে সোনালি স্বপ্ন
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫০ PM

গোয়াইনঘাটে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে মাঠে আমন রোপণের ধুম, কৃষকের চোখে সোনালি স্বপ্ন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৮/০৮/২০২৬ ০৬:১৩:৫০ PM

গোয়াইনঘাটে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে মাঠে আমন রোপণের ধুম, কৃষকের চোখে সোনালি স্বপ্ন

সংগৃহীত


কখনো কাঠফাঁটা রোদ, আবার কখনো শ্রাবণের শেষে মুষলধারে বৃষ্টি। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণ ও খামখেয়ালিপনাকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না কৃষকরা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঠে মাঠে এখন রোপা আমন ধান রোপণের ধুম পড়েছে। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্দমাক্ত মাঠে কৃষকদের এই ব্যস্ততা যেন এক অঘোষিত মহোৎসব।সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে ধীরে ধীরে সবুজের আস্তরণ পড়ছে। কোথাও পাওয়ার  টিলার বা ট্রাক্টর দিয়ে চলছে জমি প্রস্তুতের কাজ, কোথাও বীজতলা থেকে সযত্নে চারা তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও দলবেঁধে কাদা-পানিতে নেমে সারি সারি চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কৃষকদের হাসি-ঠাট্টা আর লোকজ গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ।

আবহাওয়া কখনো অনুকূল আবার কখনো প্রতিকূল হলেও কৃষকরা সময় নষ্ট করতে রাজি নন। স্থানীয় এক কৃষক রুহুল আমিন বলেন, "মাঝখানে কয়েকদিন খুব কড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরম ছিল, এর মাঝেই হঠাৎ করে বৃষ্টি নামছে। কিন্তু আমনের চারা তো আর ফেলে রাখা যায় না। সময়মতো রোপণ করতে না পারলে ধানের ফলন ভালো হবে না। তাই কষ্ট হলেও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এবার আলহামদুলিল্লাহ বৃষ্টির কারণে সেচের পানি নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে হচ্ছে না।"কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সার ও বীজের সংকট না থাকায় তারা বেশ স্বস্তিতে আছেন। এছাড়া সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন চাষিদের সেচ খরচ অনেকটাই বেঁচে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রণি জানান, চলতি মৌসুমে রোপা আমন আবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ১৮২৭০ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। পোকা-মাকড় দমন ও সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।কৃষকের ঘামে ভেজা কর্দমাক্ত এই মাঠগুলোই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সোনালি ধানের শীষে ভরে উঠবে। রোদ-বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করে বোনা এই সবুজ চারাগুলো কৃষকের গোলা ভরবে এবং উপজেলার খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা