৪৩ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায়
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২০ AM

সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনকে বিদায় সংবর্ধনা

৪৩ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায়

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৪/২০২৬ ০৯:৪০:৫৪ PM

৪৩ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায়

সংগৃহিত


দীর্ঘ ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনকে রাজকীয় আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অবসর গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ে ভিড় করেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনেকেই প্রিয় শিক্ষককে এক নজর দেখতে স্কুল গেটে জড়ো হন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সকালে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনকে স্কুল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে সম্মাননা স্মারক, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও পাঞ্জাবি প্রদান করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে।

বিশেষভাবে, ১৯৯৫ সালের এসএসসি ব্যাচের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি ওমরাহ প্যাকেজ উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে ফুলে সজ্জিত প্রাইভেটকারে করে সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১ অক্টোবর সমতা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাসির উদ্দিন। পরে ১৯৯১ সালে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে ধাপে ধাপে সহকারী শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ২০১৭ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেন তিনি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, 'বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর এমন ভালোবাসা আমাকে অভিভূত করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকবো।'

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রভাষক মোশাররফ হোসেন বলেন, 'স্যারের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি আমাদের জন্য একজন আদর্শ শিক্ষক ও অভিভাবক ছিলেন।'

এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল আহাদ বলেন, 'এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পেছনে স্যারের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।'

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এএসএম আব্দুল মুমিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক গৌছুল হক নাঈমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সমাজসেবীরা।

এছাড়া লন্ডন প্রবাসী সমাজসেবক মনছব আলী জেপি ও হীরা মিয়া ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিপুলসংখ্যক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী গড়তে কাজ করছি: সিসিক প্রশাসক
মাধবপুরে নামজারি করতে গিয়ে চ*রম ভো*গান্তিতে ভূমি মালিকরা
স্লিপার বাস ব*ন্ধ না করলে গাড়ি জ*ব্দের হুঁশি*য়ারি
গোয়াইনঘাটে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে মাঠে আমন রোপণের ধুম, কৃষকের চোখে সোনালি স্বপ্ন
সুনামগঞ্জে ২০ মাসের শিশুকে ধ'র্ষ'ণের অ'ভিযোগে যুবক গ্রে'প্তার
হা'মের উপসর্গে সিলেটে আরও ২ শিশুর মৃ'ত্যু
নানকার কৃষক বি*দ্রোহ দিবস আজ: কৃষকের র*ক্তে লেখা যে ইতিহাস
সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের অ*নির্দিষ্টকালের ক*র্মবিরতি স্থগিত
সিলেটে নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট প*ড়ে বৃদ্ধের মৃ*ত্যু, আ*টক ৭
সাইবার অ*পরাধ রুখতে জনসচেতনতা জরুরি: এমপি এমরান