ছবি:সংগৃহীত
গোয়াইনঘাট উপজেলার হাওরাঞ্চলে এখন বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে কৃষকরা তাপদাহ ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবছরই হাওরাঞ্চলের একমাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে মাঠে থাকতে হয় কৃষকদের।
কৃষক মোশাহিদ আলি জানান, হাওরে বোরো ফসল কাটা সবেমাত্র শুরু হয়েছে। সপ্তাহ-দশ দিন সময় পেলে কৃষকরা হাওরের ধান ঘরে তুলতে কোনো অসুবিধা হবে না। কিছু জমির ধান দমকা হাওয়ায় মাটিতে নুয়ে পড়েছে। তাই ধান কাটতে অনেক বেশি সময় লাগছে।
হাওরবাসী যখন বিশাল এ কর্মজজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন, ঠিক তখনই বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বৃষ্টি হলে ফসল সংরক্ষণের কাজে বিঘ্ন ঘটবে বলে জানান কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১০ হাজার ১৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে হাওরে বোরো ধান আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত হাওরের ২১ ভাগ জমির ধান কর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।
গত কয়েকদিন পূর্বে ঝড়-বৃষ্টিজনিত কারণে কৃষকদের মনে যে আতঙ্কের জন্ম নিয়েছিল, এখন আর সেটা নেই। আবহাওয়া মোটামুটি ভালো থাকায় আনন্দ নিয়ে ধান কাটতে নেমেছেন শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ। এলাকার বাইরে থাকা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে আসছেন সহযোগিতা করার জন্য। কারণ হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধানের ওপর নির্ভর করে চলে কৃষক পরিবারের সবকিছু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বর্তমানে ভারী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে আবহাওয়া পরিবর্তন হতে সময় লাগে না। তাই আমরা কৃষকদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ পেকে গেলেই ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। জমিতে পাকা ধান নিয়ে কৃষকদের অপেক্ষায় থাকার কোনো সুযোগ নেই।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




