সংগৃহিত
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গাছ ও ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
এ ঘটনায় ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণঝুলিয়া গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে খলিলুর রহমান ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণঝুলিয়া মৌজার জেএল নং ৪১১, এসএ নং ১২৬, খতিয়ান নং ৪০০ ও ১৯৫-১৯৬ নং দাগভুক্ত জমি থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রজব আলীর নির্দেশে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রায় ৩৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ—যার মধ্যে আম, জাম, মেহগনি ও বেলজিয়াম গাছ রয়েছে—কেটে নেয়। পাশাপাশি প্রায় ১৫ শতক জমির আধাপাকা ধানও কেটে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী খলিলুর রহমান জানান, গত ১৫ এপ্রিল সকালে একই গ্রামের মুক্তার আলী, সেবুল মিয়া, রিয়াছ আলী, রফিক মিয়া ও কাচা মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে এসব গাছ ও ধান কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারীর চাচাতো ভাই এখলাছুর রহমান ফয়েজ বলেন, জমিটি তাদের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং তারাই সেখানে গাছ রোপণ ও ধান চাষ করেছেন। তিনি দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সিদ্দেক আলী গাছ ও ধান কাটার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এবং কাটা গাছ ও ধান অভিযুক্তের বাড়িতে দেখেছেন বলে দাবি করেন।
তবে অভিযুক্ত রজব আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। এ বিষয়ে তার বাড়ির কেয়ারটেকারের দায়িত্বে থাকা আত্মীয় রিয়াজ আলী বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং জমির মালিক রজব আলী।
ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোফাখখারুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




