সংগৃহিত
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বৃদ্ধা অলেদা বেওয়াকে (৭০) শ্বাসরোধে হত্যার রহস্য উম্মোচনের পাশাপাশি এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার শাখা এবং ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আনোয়ার হোসেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার পুরইন গ্রামের মো. ফজলে রাব্বী, দিনাজপুর সদর উপজেলার বাহাদুর বাজার এলাকার মুসফিকুর রহমান রাজ ও দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রাম গ্রামের মো. নাজমুল হুদা শান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ২১ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানার ফরিদপুর ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামের নিজ বাড়িতে একা থাকা বৃদ্ধা অলেদা বেওয়াকে হাত-পা বেঁধে এবং শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং ঋণের চাপে আর্থিক সংকটে পড়েন। ঘটনার দিন সকালে ঘোড়াঘাট উপজেলার ডুগডুগি বাজারে বসে তারা চুরির পরিকল্পনা করেন। এ সময় ফজলে রাব্বী জানান, তার আত্মীয় অলেদা বেওয়ার বাড়িতে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা রয়েছে। বৃদ্ধার ছোট মেয়ে বিদেশে থাকায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা ওই বাড়িতে চুরির সিদ্ধান্ত নেন।
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী দুপুর আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে তারা তিনজন বৃদ্ধার বাড়িতে যান। জানালা দিয়ে দেখেন অলেদা বেওয়া ঘুমিয়ে আছেন। এরপর তারা ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। নাজমুল হুদা শান্ত বাইরে পাহারায় থাকেন, আর রাজ ও রাব্বী ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন।
তিনি বলেন, ঘরে ঢোকার পর বৃদ্ধা জেগে গেলে রাজ দ্রুত তার মুখ চেপে ধরেন। পরে রাব্বীকে যেন তিনি চিনতে না পারেন সেজন্য তার চোখে টেপ লাগিয়ে দেন। এরপর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে, হাত-পা ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর তারা কানের দুল খুলে নেন এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা খুঁজতে থাকেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, একপর্যায়ে বৃদ্ধা গোঙাতে শুরু করলে শান্তকে ভেতরে ডাকা হয়। শান্ত এসে বৃদ্ধার মুখ চেপে ধরে রাখেন। এ সময় রাজ ও রাব্বী ঘর থেকে মূল্যবান মালামাল সংগ্রহ করেন। পরে তারা দেখতে পান বৃদ্ধা নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান তারা।
তিনি বলেন, ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়। অন্যদিকে, আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা, সাইবার শাখা এবং ঘোড়াঘাট থানার যৌথ অভিযানে তাদের শনাক্ত করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




