ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর ও শাহ আরেফিন টিলাসহ মোট সাতটি এলাকাকে পরিবেশগত সংকটপূর্ণ এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অনিয়ন্ত্রিত পাথর ও বালু উত্তোলনে পরিবেশ ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ক্ষতি রোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত তালিকায় থাকা অন্যান্য এলাকাগুলো হলো রতনপুর, উৎমাছড়া, লোভাছড়া, শ্রীপুর ও লালাখাল। দীর্ঘদিন ধরে এসব অঞ্চলে অবৈধ পাথর উত্তোলন, নদী ও পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাদাপাথর ও ধলাই নদীর উৎসমুখে ব্যাপক পাথর উত্তোলনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট এক রুলে জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও বিছনাকান্দিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে কেন ইসিএ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চান। একইসঙ্গে শাহ আরেফিন টিলার প্রায় ১৩৮ একর পাহাড় কেটে সমতল করার ঘটনায় সৃষ্ট বড় গর্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্যায়ন ও কারিগরি প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এলাকাগুলোকে ইসিএ ঘোষণা করা হবে। এ ঘোষণার পর সেখানে বর্জ্য নিঃসরণ, খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং মাটি-পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন নিষিদ্ধ থাকবে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর সিলেট জেলা সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, ইসিএ ঘোষণা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। জাফলংয়ে পূর্বের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় বর্তমানে পাথর উত্তোলনের অনুমতির কোনো সুযোগ নেই।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী ইসিএ এলাকায় পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ। বর্তমানে দেশে ১৩টি ইসিএ রয়েছে। নতুন এই সাতটি এলাকা যুক্ত হলে সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর নজরদারি ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় সিলেটের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




