ছবি:সংগৃহীত
সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে একদিনে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত হাওর ও খোলা মাঠে কাজ করার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জের সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা হাওরে ধান কাটা ও দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একই জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে আরও অন্তত তিনজন আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তারা খোলা মাঠে অবস্থান করছিলেন।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন কৃষক, একজন ধান ব্যবসায়ী ও একজন মাছ শিকারি রয়েছেন। তারা ধনু নদ ও আশপাশের হাওর এলাকায় কাজ করার সময় আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে আরাফাত (২৩) নামে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্যে খোলা স্থানে থাকায় তিনি বজ্রাঘাতে মারা যান বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় হাওর, নদীপাড় ও খোলা মাঠে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষি কাজের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




