জৈন্তা বার্তা
সিলেটের বালাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকার এজেন্সি পরিচালনা করে আসছেন আব্দুস সালাম। সরকারি জায়গায় বাঁশ ও টিন দিয়ে নির্মিত একটি ছোট ঘরে তিনি পত্রিকা বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছেন। সম্প্রতি ওই স্থানে ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পত্রিকা এজেন্সির মালিক আব্দুস সালাম জানান, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একই স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। নিজের সঞ্চয় ও ঋণের টাকায় ঘরটি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে পত্রিকার বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেলেও এই ব্যবসাই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।
তিনি বলেন, “আমি একজন নিম্ন আয়ের মানুষ। এই ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানি না। ঘরটি উচ্ছেদ করা হলে পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হবে।”
এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইউএনও তাকে বাজার কমিটির সভাপতি মকবুল মিয়ার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন বলে জানান।
বাজার কমিটির সভাপতি মকবুল মিয়া বলেন, “ড্রেন নির্মাণ একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প। তবে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এমন সমাধানের চেষ্টা করা হবে, যাতে উন্নয়ন কাজও সম্পন্ন হয় এবং তার ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, “সরকারি উন্নয়ন কাজের স্বার্থে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে কোনো ব্যক্তি যাতে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দীর্ঘদিনের একটি পত্রিকা বিক্রয় কেন্দ্র উচ্ছেদের আশঙ্কার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক, পাঠক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আব্দুস সালামের জীবিকা রক্ষায় মানবিক ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




