ছবি:সংগৃহীত
আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ২৪ শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও আর্থিক জটিলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আলিম বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৪৪ জন শিক্ষার্থী ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে অবস্থিত হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধীনে পাঠদান করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন ও অন্যান্য ফি বাবদ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করেন মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তবে ওই অর্থ হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা হয়নি।
পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করেই ৪৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনকে সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। চিঠিতে পাওনা পরিশোধ না করে শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো আলিম পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বেতন, ফি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্ড গ্রহণ করতে হবে।
অভিযোগকারীরা জানান, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেননি। ফলে ২৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সদস্যরা জানান, বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হবে না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আল আমিন বলেন, বকেয়া বিল আদায়ের জন্য মাদ্রাসার অফিস সহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখন বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন ও ফি বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুত হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ২৪ শিক্ষার্থীর আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




