ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরীর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানো, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিনব্যাপী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এলাকার সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত মতামত গ্রহণ করেন।
দিনের শুরুতে তিনি নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ফরহাদ খাঁর পুল থেকে সোনারপাড়া পর্যন্ত নির্মাণাধীন আরসিসি সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে দ্রুত সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশনা দেন।
পরে একই ওয়ার্ডের হলদি ছড়া পরিদর্শন করে ছড়ার বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহের সক্ষমতা এবং সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ছড়াগুলো সচল রাখা ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর সিসিক প্রশাসক ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপরাণ চৌমুহনা এলাকায় ছড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং অস্থায়ী সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।
একই ওয়ার্ডের ধনুকান্দি এলাকার ছড়া, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থাও ঘুরে দেখেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়ে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের পুকুরে নির্মাণাধীন ঘাট ও চারপাশের ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীদের মানসম্মতভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাই তাদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
পরে তিনি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জল্লারপার এলাকায় জল্লাদিঘি, ওয়াকওয়ে, ছড়া ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় জলাধার সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিনসহ সিসিকের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




