ছবি:সংগৃহীত
র্পুষ্টিগুণ, সুস্বাদু স্বাদ ও ঔষধি গুণের কারণে দেশে দিন দিন বাড়ছে মাশরুমের চাহিদা। আবাদি জমি ছাড়াই স্বল্প পুঁজিতে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় এটি তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে লাভজনক সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বিকল্প আয়ের উৎস তৈরিতে মাশরুম চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বসতবাড়ির অব্যবহৃত স্থান, এমনকি ঘরের বারান্দাতেও সহজেই এ চাষ করা সম্ভব।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল কফি গার্ডেনের মাল্টিপ্রজেক্টের আওতায় ফলদ গাছের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, মাত্র ৩০০ টাকা পুঁজি দিয়েও একজন নতুন উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন। বর্তমানে খামারটিতে ৫০০টির বেশি স্পন (বীজ) প্যাকেট রয়েছে। এসব থেকে প্রায় ৫০০ কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
কফি গার্ডেনের ইনচার্জ আবু সুফিয়ান জানান, একটি স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মাশরুম সংগ্রহ করা যায়। দুই কেজি ওজনের একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় দুই কেজি মাশরুম উৎপাদন সম্ভব। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কেজি তাজা মাশরুম বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং শুকনো মাশরুম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
তিনি বলেন, উৎপাদিত মাশরুম সিলেটের বিভিন্ন সুপারশপ ও রেস্তোরাঁয় সরবরাহের পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে খামারটিতে প্রতিদিন চারজন শ্রমিক কাজ করছেন। উৎপাদন বাড়ানো গেলে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসরেফুল আলম বলেন, গোলাপগঞ্জে এই প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ শুরু হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও স্বল্প পুঁজিতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ এ খামারকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। নতুন কেউ মাশরুম চাষে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ঢাকায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




