সিলেটের মাদ্রাসায় দুই শি/শুকে ধ/র্ষণের স্বীকারোক্তি, কা/রাগারে প্রধান শিক্ষক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ PM

সিলেটের মাদ্রাসায় দুই শি/শুকে ধ/র্ষণের স্বীকারোক্তি, কা/রাগারে প্রধান শিক্ষক

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ০৪:৫৫:৩১ PM

সিলেটের মাদ্রাসায় দুই শি/শুকে ধ/র্ষণের স্বীকারোক্তি, কা/রাগারে প্রধান শিক্ষক

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটের একটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই    শি/শুকে ধ/র্ষণের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (মুহতামিম) ফয়জুল হক। বৃহস্পতিবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

ফয়জুল হকের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। এদিকে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সিলেট সদর উপজেলার ওই মাদ্রাসাটি তালাবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও সেখানে নেই বলে জানান তাঁরা।

তবে শুধু ওই দুই শিশু নয়, মাদ্রাসাটির আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নি/র্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, কয়েকজন শিশুর শরীরেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগে মাদ্রাসার আট বছর বয়সী এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার অভিভাবককে ডেকে শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে বলে। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।

ওই শিশুর বাবা জানান, মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আসার পর তাঁর ছেলে আর সেখানে যেতে চাইছিল না। বারবার জিজ্ঞাসা করলেও প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে একপর্যায়ে মাদ্রাসায় তার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানায়।

শিশুটির বাবা বলেন, এরপর কয়েকজন অভিভাবক মিলে মাদ্রাসায় গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন আরও কয়েকজন শিশু একই ধরনের নি/র্যাতনের কথা জানায়। শিশুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতি রাতে এক থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের সঙ্গে যৌ/ন নিপীড়ন করা হতো। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুদের ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিশুদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসাটি আর চালাতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে দুই শিক্ষার্থীকে ধ/র্ষণের অভিযোগে বুধবার ফয়জুল হককে আটক করে শাহপরান থানা-পুলিশ। পরে নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।

শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুকে ধ/র্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ফয়জুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু দুটি সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে এবং আর সেখানে যেতে চাইছিল না। অভিভাবকেরা কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, প্রায় প্রতি রাতে তাদের শিক্ষকের কক্ষে যেতে হতো। না গেলে মারধর করা হতো এবং কক্ষে নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন করা হতো বলে শিশুদের ভাষ্য।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ফয়জুল হক আদালতে শিশুদের ধ/র্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। মাদ্রাসার আরও কোনো শিক্ষার্থী নি/র্যাতনের শিকার হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ